রসায়নিক গল্প বিজ্ঞানের ছাত্ররা অবশ্যই দেখবেন
-তুমি কি ফ্লোরিন বলছ?
- হ্যা ফ্লোরিন বলছি৷ কিন্তু আপনি কে?
- আমাকে চিনতে পারনি? আমি সালফার।
- সরি, কোন সালফার?
- তোমাদের বিল্ডিং এর তিন তলায় থাকি। ষোল নাম্বার এপার্টমেন্টে।
- ওহ হ্যা চিনেছি। তো হঠাত আমাকে কি মনে করে ফোন দিলেন? তাও এত রাতে?
- একটা কথা বলতে চাই তোমাকে।
- কি কথা। তাড়াতাড়ি বলুন। আমার কল আসবে আরেকটা।
- কে কল করবে? বি এফ বুঝি?
- না।
- তো জাস্টফ্রেন্ড?
- হ্যা তেমন ই।
- কে ক্যালসিয়াম? নাকি সোডিয়াম?
- ঐসব জেনে আপনার কি? কি বলতে চাইছেন বলেন তাড়াতাড়ি।
- আসলে বলছিলাম কি আমরা তো একই বিল্ডিং এ থাকি।
- হ্যা, একই বিল্ডিং এ থাকি, তো?
- তুমি এমন রেগে যাচ্ছ কেন?
- আহা বলেন? কি বলতে চাচ্ছেন।
- আসলে আমি চাচ্ছিলাম তোমার সাথে একটু দেখা করতে।
- পাগল হয়ে গেছেন? একথা আমার আপুরা শুনলে একদম মেরে ফেলবে।
- তুমি কি ক্লোরিন, আয়োডিনদের কথা বলছ?
- তো আর কার কথা বলব?
- ওরা কিচ্ছু জানবেনা।
- তা দেখা করে কি করবেন?
- আগে দেখাতো কর।
- কিন্তু আমার সাথে এখন এলুমিনিয়ামের রিলেশন চলছে। ও দেখে ফেললে? না না আমি এলুমিনিয়ামকে একদম ওকে ঠকাতে পারব না। কোনমতেই না।
- আমি তোমাকে চিলক্সে নিয়ে যাব। চাইলে র্যাপসডিতেও যেতে পার।
- এত জোর করেন না, সালফার ভাইয়া । ওকে ঠিক আছে।
- প্লিজ ফ্লোরিন, আমাকে ভাইয়া ডেকোনা। কষ্ট লাগে৷
- ওকে।
- একবার আমাকে সালফার বলে ডাকো না প্লিজ।
আচ্ছা বাবা ডাকছি সালফার। এবার হ্যাপি? আমার কিন্তু চিজ বার্গার খুব পছন্দ।
- তুমি যা খেতে চাও সব হবে। দরকার হলে আমাকে......
একটি রসায়নিক গল্প দৃশ্য পর্ব ২
- ছি কি বাজে প্রস্তাব আপনার
- বোঝার চেষ্টা কর ফ্লোরিন। তোমার নিজের ও ভাল লাগবে, লাভ ও হবে৷। জাস্ট একবার রাজী হয়ে যাও। প্লিজ।
- আহ! আহ! কি করছেন এসব। চারদিকে মানুষ কিলবিল করছে। কেউ দেখে ফেলবেতো! পাগল নাকি?
- তোমাকে আমি কাশফুলের বাগানে ঘুরতে নিয়ে যাব। প্লিজ রাজী হয়ে যাও।
- ওকে ফাইন! আপনার কয়টা লাগবে বলেন?
- বেশি না, জাস্ট ছয়টা!
- ছয়টা? এত্তগুলা? ইম্পসিবল। এত্তগুলা তো আমি এলুমিনিয়ামকেও দিইনি।
- আমার ছয়টায় লাগবেই, ফ্লোরিন । বোঝার চেষ্টা কর। একই বিল্ডিং এ থাকি। আমিতো এটা ডিজার্ভ করি ই। তাইনা?
- কিন্তু এলুমিনিয়াম জানলে খুব কষ্ট পাবে।
- ও জানবেই না। গিয়ে দেখ ও এখন তোমার বোন ক্লোরিনের সাথ হ্যাংয়াউটে চিল করতেসে।
- কি বলেন?
- হ্যা আমি ফেসবুকে দেখলাম একটু আগে।
- কি এত বড় বেঈমানি?
- এটাই তো চলছে ফ্লোরিন। আর ভেবোনা। রাজী হয়ে যাও। কাছে আসো।
- ওকে চোখ বন্ধ কর।
- ইয়োওও। ইউ আর সো সুইট ফ্লোরিন।
একটি রাসায়নিক গল্প দৃশ্য পর্ব ৩
-এই একদম চোখ খুলবেনা। আমি কাছে আসছি।
- আসোনা বেবি।
- আসছি৷ কাছে আসছি। খুব কাছে।
- আরো কাছে। বাড়িয়ে দিয়েছি।
- আমিও দিলাম।
- ধর।
- ধরেছি।
- জলদি দাও।
- দিচ্ছি।
- আরো দাও।
- দিচ্ছিতো বাবা।
- আরো দাও।
- দিচ্ছিতো।
টুট....টুট....টুট..টুট....
থামেন। কি ভাবসেন। এখনই ১৮+ সিন আরম্ভ হবে? মোটেও না। আর কিছুই হবেনা।
কারণ ইতিমধ্যেই কাজ হয়ে গেছে।
ফ্লোরিন+সালফারের দেওয়া নেওয়ার মাঝেই জন্ম নিয়েছে সালফার হেক্সাফ্লুরাইড (SF6) নামে নতুন একটি যৌগ।
যেখানে ছয়টি ফ্লোরিন সালফারের শেষ কক্ষপথে ছয়টি ইলেক্ট্রন শেয়ার করে তৈরি করেছে সমযোজী বন্ধন।
আর এভাবেই রসায়নে সৃষ্টি হয় হাজার হাজার যৌগ। দেয়া নেয়া শেয়ারের।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটি কমার্স এবং আর্টসের ভাইয়া আপুদের জন্যে নহে!
এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে।
