স্বামী কেনো স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারে না? আপনজন ডোনার হলে কি সমস্যা?

স্ত্রীর রক্তশূন্যতা। রক্ত লাগবে। আপনি স্বামী। খুব ভালবাসেন স্ত্রীকে। যেহেতু রক্তের গ্রুপ এক, তাই আপনিই রক্ত দিলেন। এবার আপনার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা।
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated
আস্‌সালামু আলাইকুম! আশা করি আল্লাহ এর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন।আমিও আপনাদের দোয়াই ভালো আছি। আজ আপনাদের কাছে একটা নতুন আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি। তাই কথা না বাড়িয়ে চলুন সরাসরি আর্টিকেলটির মুল অংশে প্রবেশ করি। আজকের আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলোঃ

স্বামী কেনো স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারে না? আপনজন ডোনার হলে কি সমস্যা? 

স্বামী কেনো স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারে না? আপনজন ডোনার হলে কি সমস্যা?



রক্তদান নিঃসন্দেহে পুণ্যের কাজ! কয়েক ফোঁটা রক্ত পেলেই বেঁচে যায় মুমূর্ষু-প্রাণ৷ তাই অবশ্যই রক্ত দিন৷ কিন্তু রক্ত দেওয়া বা নেওয়ার সময় সামান্য ভুলচুকে নষ্ট হতে পারে জীবন৷ বিপদে পড়তে পারেন দাতা-গ্রহীতা দুজনেই!
আসলে অনেকেই জানেন না, রক্ত দেওয়ার আগে কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখতে হয়! জানেন না, রক্ত দেওয়ার পর দাতার শরীরে কোনও প্রভাব পড়তে পারে কি না! একইভাবে ব্লাড ব্যাঙ্ক কিংবা সরাসরি কোনও ব্যক্তির দেহ থেকে রক্ত নেওয়ার সময়েও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না৷ পরিণাম? সেই জীবনদায়ী রক্তই গ্রহীতার শরীরে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ যা ডেকে আনতে পারে মৃত্যুকে!

আপনজন ডোনার হলে কি কোন সমস্যা?


ধরুন আপনার বাবার রক্তশূন্যতা। হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। জরুরী রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হবে। আপনার বাবা আর আপনি দুজনেই একই রক্তের গ্রুপ।

ধরা যাক বি" পজিটিভ।  তাহলে নিশ্চয়ই আপনি বাবার জন্য রক্ত দেবেন। এবং সেটা করাই স্বাভাবিক। আপনি বাবাকে রক্ত দিলেন। বাবা একটু সুস্থ। আপনার বেশ ভাল লাগছে। নিজেকে পরিতৃপ্ত মনে হচ্ছে।

১০-১৪ দিন পর আপনার বাবার জ্বর এলো। সাথে আবার রক্ত শূন্যতা, জন্ডিস, ডায়রিয়া, ত্বকে ফোস্কা। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। চিকিৎসা চলছে।  কিন্তু তাঁকে বাঁচানো গেলো না। হঠাৎ এমন অসুস্থ হবার কারণটাও খুঁজে পাওয়া গেলো না।

বিষয়টি একবার ভাবুন....
আপনজনের রক্ত পরিসঞ্চালন করার পর TA-GVHD হতে পারে। খুব কম সংখ্যক হয় কিন্তু হলে শতকরা ৯৫ ভাগ মৃত্যু হার। রোগীকে ফিরিয়ে আনা যায় না। তবে ইরেডিয়েটেড করে রক্ত দিলে এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা সব খানে নেই।

অতএব আপনজন ডোনার না হওয়াটাই শ্রেয়। যেমন বাবা,মা, ভাই, বোন, ছেলে, মেয়ে।

স্বামী কেনো স্ত্রী কে রক্ত দিতে পারে না?


স্ত্রীর রক্তশূন্যতা। রক্ত লাগবে। আপনি স্বামী। খুব ভালবাসেন স্ত্রীকে। যেহেতু রক্তের গ্রুপ এক, তাই আপনিই রক্ত দিলেন। এবার আপনার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা।  বাচ্চাটা বেড়ে উঠছে জঠরে। আপনি জানেনও না আপনার দেওয়া রক্তের অন্য কোনো এন্টিজেনের বিরূদ্ধে এন্টিবডি তৈরী হয়ে আছে আপনার স্ত্রীর শরীরে। প্লাসেন্টা দিয়ে সেই এন্টিবডি বাচ্চার শরীরে যাচ্ছে এবং লোহিত রক্ত কণিকা ভাঙছে।

এটা হিমোলাইটিক ডিজিজ অব নিউবর্ন।

বাচ্চা প্রসবের পর তার এক্সচেঞ্জ ট্রান্সফিউশন লাগছে। বাচ্চাটাকে নিয়ে টানাটানি চলছে।

অতএব প্রজনন বয়সে স্বামী স্ত্রীকে রক্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকাই উপায়।

থ্যলাসেমিয়া রোগের কথা জানেন কি?


আপনি জানেনও না আপনার শরীরে থ্যলাসেমিয়া নামক অসুখের জিন আছে। কারণ আপনি মাইনর বা ট্রেইট। আপনার বিয়ের সময় অবশ্যই যার সাথে বিয়ে তার থ্যালাসেমিয়া আছে কিনা জেনে নিন। কারণ আপনার একটু রক্তশূন্যতা হওয়ায় পরীক্ষায় পাওয়া গেছে আপনি এই জিন বহন করছেন।

স্বামী স্ত্রী একই জিন বহনকারী হলে বিপদটা কোথায়?


আপনি এবং আপনার স্ত্রী দুজনই যদি এই জিন বহন করেন তবে বংশধরেরা এটা পাবে। এবং কেউ না কেউ হয়তো রোগটাকে নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। তাকে ৩/৪ মাস পর পর রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হবে। তার সাথে আরো কত বিষয় জড়িত!

রক্তপরিসঞ্চলন কি?


রক্তপরিসঞ্চালন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।  তাই যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরী। এটা কোনো টনিক নয়, স্যালাইনও নয়। শরীরের জীবিত কোষ প্রতিস্থাপন। নানা নরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। আরো অনেকভাবে চিকিৎসা করা যায়।

স্বামী- স্ত্রী রক্তের গ্রুপ এক হলে কি কোন সমস্যা?



"হাজব্যান্ড ও ওয়াইফের রক্তের গ্রুপ একই  হলে নাকি বাচ্চার জন্মগত সমস্যা হয়???

প্রায় প্রতিদিনই এই একি প্রশ্নটা ফেস করতে হয়। উত্তরটা খুব সহজ-" কোন সমস্যা হয় না। হওয়ার কোন কারণও নেই"।

আমরা জানি সারা দুনিয়ায় 36% "ও" গ্রুপ, 28% "এ" গ্রুপ, 20% "বি" গ্রুপ। কিন্তু এশিয়াতে প্রায় 46% মানুষের রক্তের গ্রুপ "বি +"। এশিয়ায় নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ 5% যেখানে ইউরোপ আমেরিকায় প্রায় 15%।

যেখানে সিংহভাগ মানুষের রক্তের গ্রুপ আমাদের দেশে "বি "+ সেখানে জামাই বউয়ের গ্রুপতো মিল হবেই সেটাই  স্বাভাবিক। এতে কোন সমস্যা হয় না। 

গর্ভেই সন্তান মারা যাওয়ার কারণ কি?


যদি স্ত্রীর নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ থাকে এবং স্বামীর পজিটিভ গ্রুপ থাকে তাহলে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যাকে  Rh -Isoimmunization বলে।

পজিটিভ স্বামী নেগেটিভ স্ত্রীর প্রথম সন্তান যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয় তাহলে কোন প্রকার সমস্যা হবে না।

সমস্যা হয় তখন যদি প্রথম সন্তান বাবার রক্তের গ্রুপ পায় অথ্যাৎ যদি পজিটিভ হয়।

এই পজিটিভ রক্তের গ্রুপ Pregnant অবস্থায় সাধারণত কোন ঝামেলা করে না। তবে এই সন্তান জন্মের সময় বাচ্চার পজিটিভ রক্ত নেগেটিভ মায়ের রক্তের সাথে মিশে যা pregnant অবস্থায় দুরূহ। যদিও 0.1% ক্ষেত্রে রক্তের এই মিশ্রণ Pregnant অবস্থায় হতে পারে। 

মায়ের নেগেটিভ রক্তের সহিত বাচ্চার পজিটিভ রক্তের এই মিশ্রণের কারণে মায়ের রক্তে একধরনের Antibody তৈরী হয়ে থাকে যা পরবর্তী Pregnant কে ঝুকিতে ফেলে, পরবর্তী Pregnant এ বাচ্চাটি যদি আবারও পজিটিভ গ্রুপের হয় তবে এই Antibody দ্বিতীয় বাচ্চাটিকে নষ্ট করে দেয়।

এ কারণেই প্রথম পজিটিভ সন্তান জন্মের পরপরই 72 ঘন্টার মধ্যে Rh-Anti-D Antibody নামক একটি প্রতিরোধক Injection মাকে দিতে হবে। 

এই প্রতিরোধক Injection মায়ের শরীরে বিদ্যমান বাচ্চার লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে দেয় এবং Antibody তৈরী করতে দেয় না, ফলে পরবর্তী সময় বাচ্চার রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে ও কোন সমস্যা হয় না। 


তবে নেগেটিভ মায়ের পজিটিভ বাচ্চা ডেলিভারির পর যদি Rh-Antibody-D  প্রতিরোধক Injection  মাকে না দেওয়া হয় তবে পরবর্তী পজিটিভ বাচ্চা জন্মগতভাবে রক্ত স্বল্পতা, জন্ডিস নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে। এমনকি গর্ভে সন্তান মারা ও যেতে পারে। 

অনেকের ভ্রান্ত ধারণা আছে - বাবা মায়ের রক্তের গ্রুপ এক হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া হয়। যেটা সঠিক নয়।


এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে। আর নতুুন কিছু জানার থাকলে আমাদের জানান, আমরা সে-সব জানানোর চেস্টা করবো আমাদের সাথে যোগাযোগ


স্বীকারোক্তিঃ UipOka তে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে। সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

About the Author

উইপোকা ব্লগে বিভিন্ন শিক্ষামূলক, বিসিএস প্রস্তুতি, সকল চাকরির সার্কুলার পোস্ট করা হয়। প্রতিটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে, আমরা একটি ক্রমবর্ধমান অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কাজ করছি।

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কোন কারণ ছাড়া লিংকিং কমেন্ট করা হলে সেই সকল কমেন্ট অনুমোদন করা হবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত কারনে লিংলিংক কমেন্ট করলে সেগুলো যাচাই বাছাই করার পর অনুমোদন করা হবে। তাছাড়া আমরা সবসময় জিরো স্প্যামিং নীতি অনুসরণ করি।উইপোকার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

স্বীকারোক্তি

এই ওয়েবসাইটে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়। পোস্ট লেখার সময় অসাবধানতাবশত আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। যেকোনো অপ্রীতিকর ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং কোনো প্রকার ভুল তথ্যের জন্য UiPoka.Com দায়ী নয়।

আপনি যদি কোনো ভুল তথ্য দেখতে পান তাহলে অবিলম্বে আমাদের জানান। আমরা দ্রুত এটি ঠিক করার চেষ্টা করবো। অভিযোগ করতে এখানে ক্লিক করুন

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.