ফেসবুক আসক্তি কি? ফেসবুক আসক্তি মাদকের চেয়ে ভয়ংকর কেন? ফেসবুক আমাদের আহাম্মকে পরিনত করছে না তো?

ফেসবুক যেহেতু নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগের বারোটা বাজায়, তাই কোনো বিষয়ে মনোনিবেশ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তির চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা।
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated
আস্‌সালামু আলাইকুম! আশা করি আল্লাহ এর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন।আমিও আপনাদের দোয়াই ভালো আছি। আজ আপনাদের কাছে একটা নতুন আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি। তাই কথা না বাড়িয়ে চলুন সরাসরি আর্টিকেলটির মুল অংশে প্রবেশ করি। আজকের আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলোঃ

ফেসবুক আসক্তি কি? ফেসবুক আসক্তি মাদকের চেয়ে ভয়ংকর কেন? ফেসবুক আমাদের আহাম্মকে পরিনত করছে না তো?

ফেসবুক আসক্তি কি? ফেসবুক আসক্তি মাদকের চেয়ে ভয়ংকর কেন? ফেসবুক আমাদের আহাম্মকে পরিনত করছে না তো?


বিশ্বব্যাপী ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সম্প্রতি ২০০ কোটি ছাড়িয়েছে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এগোচ্ছে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে। সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেসবুক ব্যবহারকারীর শহর আমাদের এই ঢাকা মহানগরী! তবে এ সংবাদে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ নেই মোটেই। কেননা গবেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে ক্রমেই পরিণত করছে অসামাজিক নিষ্ক্রিয় প্রাণীতে।

লাইক : নকল আনন্দের বাহারি ঝুমঝুমি


ফেসবুক দ্রুতগতিতে সর্বমহলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘লাইক’ ফিচারটি চালু হওয়ার পর। লাইক পাওয়ার জন্যে খ্যাপাটে ও উসকানিমূলক মন্তব্য বা ছবি পোস্ট করার ঘটনাও কম নয়। মজার বিষয়, লাইকের উদ্ভাবক জাস্টিন রোজেনস্টাইন নিজেই তার ফোন থেকে এই ফিচারটি সরিয়ে ফেলেছেন। কেন? আসক্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ে! নিজেই স্বীকার করেছেন সে-কথা।

শুধু তা-ই নয়। অন্যান্য সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপও তিনি ফোন থেকে মুছে দিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এসব অ্যাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং মানুষকে আসক্ত করে তোলে।’ অ্যাপের নির্মাতারা সাবধানতা অবলম্বন করলেও অধিকাংশ ব্যবহারকারীই এ ব্যাপারে মোটেই সচেতন নন।

আহাম্মকে পরিণত হচ্ছেন না তো?


ফেসবুক যেহেতু নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগের বারোটা বাজায়, তাই কোনো বিষয়ে মনোনিবেশ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তির চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা। এমনকি আইকিউ লেভেলও কমতে থাকে ধীরে ধীরে। তাই সহজে আহাম্মক হতে চাইলে দীর্ঘসময় ফেসবুক ব্যবহার করে যে-কেউ পেতে পারে চমৎকার ফল।

ফেসবুক ব্যবহারে কমছে মনোযোগ!


২০১৫ সালে মাইক্রোসফট পরিচালিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, স্মার্টফোন-বিপ্লব ঘটার আগে মানুষের মনোযোগের স্প্যান ছিল ১২ সেকেন্ড। এখন তা দাঁড়িয়েছে মাত্র আট সেকেন্ডে। আর সবচেয়ে কম মনোযোগের খেতাবধারী গোল্ডফিশের স্প্যান ৯ সেকেন্ড! কাজেই সাড়ে সর্বনাশ ঘটিয়ে কপাল চাপড়ানোর আগেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পাশ্চাত্যের সমাজবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদরা।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি কলামে একই আশঙ্কাই ব্যক্ত করেছেন আমাদের দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল-‘আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের পড়াই তারা সবাই একটা বিষয় লক্ষ করেছি। গত কয়েক বছর থেকে ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসছে। অনেক সময়েই মনে হয় পড়ানোর সময় আমি যেটা বলছি ছাত্রছাত্রীরা সেটা শুনছে, কিন্তু বোঝার জন্যে মস্তিষ্কটি ব্যবহার করতে তাদের ভেতর এক ধরনের অনীহা, এক ধরনের আলস্য।

এ নিয়ে কোনো গবেষণা হয় নি। আমার কাছে কোনো তথ্য-উপাত্তও নেই। কিন্তু আমার মনে হয়, এটি হচ্ছে ফেসবুক জাতীয় সামাজিক নেটওয়ার্কে বাড়াবাড়ি আসক্তির ফল। এটি নিশ্চয়ই শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, সারা পৃথিবীর সমস্যা। আমি একাধিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দেখেছি, মাদকে আসক্তি এবং ফেসবুকে আসক্তির মাঝে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।’ (দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২০ অক্টোবর ২০১৭)

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচ ডিভোর্সের একটিতে দায়ী ফেসবুক!


দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙতেও ইদানীং দারুণ (!) ভূমিকা রাখছে ফেসবুক। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচটি ডিভোর্সের অন্তত একটির পেছনে ফেসবুক ভূমিকা রাখছে বলে একটি জরিপে জানা গেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে স্বামী/ স্ত্রী পরস্পরের অজান্তে এমন সব নারী-পুরুষের সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক গড়ে তুলছেন যাকে অবিশ্বস্ততা বলা যায়। যার ক্রমবর্ধমান বলি হয়ে উঠছে দাম্পত্য সম্পর্কগুলো।

আমেরিকান একাডেমি অব ম্যাট্রিমনিয়াল ল’ইয়ার্স দেশটিতে সংঘটিত সাম্প্রতিক কিছু ডিভোর্সের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। দেখা গেছে, ফেসবুক ব্যবহার করে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে পরস্পরকে প্রতারণা করার হার দিন দিন বাড়ছে। ফেসবুকের মাধ্যমে তারা অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, মার্কিন আদালতে ডিভোর্স আবেদনে বাদীর পক্ষের শতকরা ৬৬ জন আইনজীবী অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে ফেসবুক থেকে নেয়া তথ্য ব্যবহার করছেন! এ জরিপে আরো বলা হয়েছে, ব্রিটেনেও প্রতি এক শ-এর মধ্যে ২০টি ডিভোর্সের ঘটনায় ভূমিকা রাখছে ফেসবুক।

স্টিভ জবস ও বিল গেটস ॥ প্রযুক্তিপণ্য থেকে ঠিকই দূরে রেখেছেন নিজের সন্তানদের


মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। তাদের মতো মহান উদ্যোক্তাদের কল্যাণে (!) স্মার্টফোন, ট্যাব, আইপ্যাড ও কম্পিউটার গেমস পৌঁছে গেছে পৃথিবীব্যাপী কোটি মানুষের দুয়ারে। অথচ এই প্রযুক্তিবিদরা নিজেদের সন্তানদের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে শুরু থেকেই জারি করে রেখেছিলেন কঠোর নিষেধাজ্ঞা। বিল গেটস তার সন্তানদের বয়স ১৪ হওয়ার আগে মোবাইল ফোন কিনে দেন নি, কম্পিউটারও ব্যবহার করতে দিতেন দিনে মোটে ৪৫ মিনিটের জন্যে। আর স্টিভ জবস তো নিজের উদ্ভাবিত আইপ্যাডই কখনো ব্যবহার করতে দেন নি সন্তানদের।

এ সতর্কতা অবলম্বনের কারণ হলো ওরা ঠিকই জানেন, আইপ্যাড-আইফোন জাতীয় প্রযুক্তিপণ্যগুলো মানুষকে অতিমাত্রায় আসক্ত করে তোলে। তাই মুনাফার লোভে অপরের ঘরে অশান্তির কাঁচামাল জোগান দিলেও নিজের ঘর তারা সাধ্যমতো আগলে রেখেছেন ঠিকই।

তাই নিত্যনতুন প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নিজে সচেতন হোন এবং সেইসাথে সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন ও আইপ্যাডরূপী এসব আসক্তি-উপকরণ তুলে দেয়ার আগে আরেকবার ভাবুন।

ফেসবুক ব্যবহারে বাড়ছে দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা


২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতি-নির্ধারক সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অর্থায়নে ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ স্কুল অব মেডিসিন একটি গবেষণা চালায়। ১,৭৮৭ জন মার্কিন তরুণের জীবনাভ্যাস পর্যালোচনা করে গবেষকরা রায় দেন, একজন তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যত বেশি সময় কাটাবে, তত সে হতাশ একাকী ও বিষণ্ন হয়ে পড়বে। গবেষকরা তাই ফেসবুককে আখ্যায়িত করেছেন ‘অবসাদগ্রস্ত মানুষের আখড়া’ হিসেবে।

গত কয়েক বছরে মার্কিন টিনএজারদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনেও স্মার্টফোনের বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করছেন সে-দেশের মনোবিজ্ঞানীরা।


ফেসবুক আসক্ত মানুষ আমরা কম-বেশি সবাই। এই আসক্তি এখন বাস্তব জীবনের নেশার চাইতেও কম নয়! অনেক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মটিকে নেশার চাইতেও ক্ষতিকারক হিসেবে মনে করছেন। সম্প্রতি মার্কিন ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার জায়ান্ট সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক বেনিওফ ফেসবুক -কে ‘সমাজের নতুন সিগারেট‘ বলেও কড়া সমালোচনা করেছেন। ফেসবুক আসক্তিকে মনোবিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘Facebook Addiction Disorder (FAD)‘।

আমাদের জীবনে ফেসবুক যেভাবে জড়িয়ে আছে। তাতে ফেসবুক আসক্তিকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও তেমন কিছু নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফেসবুকের আধিপত্য এতটাই বেশি যে, দিনদিন মারাত্মক হুমকির একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্লাটফর্ম। আপনিও কি ফেসবুকে আসক্ত? জানতে যান আপনার ফেসবুক আসক্তির মাত্রাটা কতটুকু? ফেসবুক নিয়ে আপনার Addiction Score জেনে নিন ছোট্ট একটি পরীক্ষা দিয়ে!

ফেসবুক আসক্তি পরীক্ষা করবেন যেভাবে

আমরা কম-বেশি সবাই ফেসবুক আসক্ত। তবে এই আসক্তির প্রভাবটা একেকজনের জীবনে একেক রকম। যা নির্ভর করে আপনার ফেসবুক ব্যবহারের ধরনের উপর। তাই আপনার ফেসবুক আসক্তির মাত্রা জানতে আমরা শেয়ার করছি কিছু স্টেটমেন্ট। যার অপশন হিসেবে আছে শুধুমাত্র সত্য অথবা মিথ্যা। উত্তরগুলো মনে মনে দিয়ে ফেলুন। আর গুনে রাখুন কয়টি প্রশ্নের উত্তর ‘সত্য’ হয়। কারণ এর ভিত্তিতেই চিহ্নিত করা হবে আপনার ফেসবুক আসক্তির মাত্রা। উত্তর গুনে রাখার সুবিধার্থে খাতায় টুকে রাখতেও পারেন।

১। প্রকৃতপক্ষে আমি ফেসবুকে যতটুকু সময় দিতে চাই তার চেয়েও বেশি দিয়ে ফেলি। (সত্য / মিথ্যা)
২। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ফেসবুক নিউজফিড দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। (সত্য / মিথ্যা)
৩। আমি ফেসবুকে বেশি সময় ব্যয় করি বলে আমার পরিচিতজনরা প্রায়ই অভিযোগ করে। (সত্য / মিথ্যা)
৪। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াই আমি ফেসবুকে দৈনিক ২ ঘন্টার বেশি সময় দিয়ে থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
৫। কর্মক্ষেত্রে অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেসবুক চালানোর অনুমতি না থাকলেও আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য / মিথ্যা)
৬। একদিন ফেসবুক ছাড়া চলতে আমার খুবই কষ্ট হয়। (সত্য / মিথ্যা)
৭। ফেসবুকে ফ্রেন্ড লিস্ট বড় করতে আমি চেস্টা করি। (সত্য / মিথ্যা)
৮। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টের অধিকাংশকই আমার বাস্তব জীবনে পরিচিত না। (সত্য / মিথ্যা)
৯। পড়াশুনা এবং কাজে ফেসবুকের জন্য আমার সমস্যা হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১০। ফেসবুকের জন্য আমার বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোতে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১১। আমি প্রায়ই ফেসবুকে গেমস খেলতে গিয়ে ১ ঘন্টার বেশি সময় কাটিয়ে ফেলি। (সত্য / মিথ্যা)
১২। আমার কোন ফেসবুক পোস্টে কেউ কমেন্ট না করলে আমার অস্বস্তিবোধ হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১৩। পরিচিতজনদের সাথে বাস্তবে কথা বলার চেয়ে ফেসবুকে চ্যাটিং করে কথা বলতেই বেশি ভাল লাগে। (সত্য / মিথ্যা)
১৪। ফেসবুক ছেড়ে দিতে অথবা কম সময় কাটাতে চেয়েও আমি অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। (সত্য / মিথ্যা)
১৫। অনলাইনে অন্যান্য ওয়েবসাইটের চেয়ে আমি ফেসবুকেই বেশি সময় কাটাই। (সত্য / মিথ্যা)
১৬। বাসার কাজ এড়াতে আমি মাঝে মাঝে ফেসবুকে ব্যস্ত থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
১৭। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে আমার শখের কাজগুলোতে সময় কম দেয়া শুরু করেছি। (সত্য / মিথ্যা)
১৮। ফেসবুকে আমার অনেক বন্ধু থাকলেও নিজেকে প্রায়ই একা মনে হয়। (সত্য / মিথ্যা)
১৯। পরিবার, বন্ধু কিংবা পরিচিতজনদের সাথে আড্ডার সময়েও ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য / মিথ্যা)
২০। সকালে উঠার পরপরই সর্বপ্রথম আমি ফেসবুক নোটিফেকশন চেক করে থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
২১। গতরাতে আমি ঘুমানোর আগে ফেসবুক চালিয়েছি। (সত্য / মিথ্যা)
২২। স্ট্রেস অথবা ডিপ্রেশন কাটাতে ফেসবুক ব্যবহারকেই বেছে নিয়ে থাকি। (সত্য / মিথ্যা)
২৩। ফেসবুকের কারণে প্রায়ই অফিস, স্কুল/কলেজ অথবা অন্য কোন প্রয়োজনীয় কাজে যেতে দেড়ি হয়। (সত্য / মিথ্যা)
২৪। ফেসবুকে কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর সে অ্যাক্সেপ্ট না করলে বিব্রতবোধ অথবা অস্বস্তিকর লাগে। (সত্য / মিথ্যা)
২৫। বন্ধুরা কে কি করছে তার নোটিফিকেশন পেতে আমি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছি। (সত্য / মিথ্যা)
২৬। কারো কাছে তাঁর ফেসবুক ফ্রেন্ড সংখ্যা আমার ফ্রেন্ড লিস্টের চেয়ে বেশি শুনলে আমার খারাপ লাগে। (সত্য / মিথ্যা)
২৭। আগামী ১ মাসের জন্য আমি ফেসবুক ডিঅ্যাক্টিভ করতে পারব। (সত্য / মিথ্যা)
২৮। বাস্তবে এবং ফেসবুকে কেউ একজন কি বলেছে তা নিয়ে আমি প্রায়ই কনফিউজড হয়ে যাই। (সত্য / মিথ্যা)
২৯। যখন আমি অবসরে থাকি অথবা উদাস লাগে। তখন আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। (সত্য / মিথ্যা)

আপনি উপরে উল্লেখিত সবগুলো প্রশ্নের উত্তর মনে মনে দিয়ে ফেলেছেন। এবার বলুন আপনার কতটি উত্তর ‘সত্য’ দিয়েছেন। আর সেটাই হল আপনার Facebook Addiction Score। এবার সেই স্কোরের সাথে নিচে উল্লেখিত মন্তব্য মিলিয়ে নিন। তাহলেই আপনি জেনে যাবেন, আপনি আসলে কতটুকু ফেসবুক আসক্ত!

০ থেকে ৫ এর মধ্যে যদি আপনার স্কোর হয়…

অভিনন্দন! আপনার মাঝে ফেসবুক আসক্তি বলে কিছু নেই! আপনি নিতান্তই ফেসবুকের একজন সাধারন ব্যবহারকারী। ফলে ফেসবুকের কোন প্রভাব আপনার জীবনে আপাতত নেই। তবে চেস্টা করুন আপনার এই ব্যবহার যেন কোনভাবেই বেড়ে না যায়! প্রত্যেকের ফেসবুক ব্যবহার আপনার মতোই হওয়া উচিত!

৬ থেকে ১০ এর মধ্যে যদি আপনার স্কোর হয়…

আপনি মোটামুটি লেভেলের ফেসবুক আসক্ত। আপনার দৈনন্দিন জীবনে ফেসবুক জড়িয়ে আছে। ফেসবুকে আপনি অনেক সময় ব্যবহার করলেও আপনি সেটার জন্য প্রায়ই অনুশোচনা করে থাকেন।

১১ থেকে ২০ এর মধ্যে যদি আপনার স্কোর হয়…

আপনি ফেসবুক আসক্ত! আপনি যে মাত্রায় ফেসবুক ব্যবহার করেন তা মোটেও ঠিক না। এর ফলে আপনি প্রায়ই বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন। যা আপনাকে অন্য কাজগুলোতে অমনোযোগী করে তুলেছে।

২১ এর বেশি যদি আপনার স্কোর হয়…

ফেসবুকই জীবন, জীবন মানেই ফেসবুক! হ্যাঁ, ফেসবুকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আপনার জীবন এখন এমন অবস্থাতেই আছে বলা চলে! একটা দিন ফেসবুক ছাড়া থাকাট যেন আপনার কাছে সাত সমুদ্র তের নদী পার হওয়ার মতো কঠিন কাজ। আপনার জীবনের আষ্ঠে পৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মটি। দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আপনার। খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এই ফেসবুক আসক্তির কারণে বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোও টানাপোড়নের মাঝে চলে গিয়েছে। ফেসবুক ব্যবহার কমানো অথবা ছেড়ে দেয়া আপনার জন্য এখন সর্বাধিক জরুরী কাজ। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে এর ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

ফেসবুক আসক্তি কমানোর ৭টি উপায়


১. কিছুক্ষণ পর পরই নোটিফিকেশন চেক না করে, দিনের কয়েকটা নির্দিষ্ট টাইমেই (৪-৫ ঘণ্টা পরপর) জমে থাকা নোটিফিকেশন চেক করুন।

২. ফেসবুক আসক্তি কমানোর একটা সহজ উপায় হলো প্রতিবার ইউজ করা শেষে লগ আউট করা এবং One Tap লগ ইন অপশনের পরিবর্তে পাসওয়ার্ড লিখে লগ ইন করার অপশন টাই রাখা।

৩. কোনো দরকারি কাজে ফেসবুকে লগ ইন করলে সবার আগে ওই কাজটি করে নিন। নয়তো দেখবেন স্ক্রল করে করে কয়েক ঘণ্টা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু আসল কাজটাই বাকি রয়ে গেসে
৪. ফেসবুক ওয়াচ একটা ট্র্যাপের চেয়ে কম না। আপনার বিহেইভিওর এনালাইসিস করে আপনাকে ভিডিও সাজেস্ট করতেই থাকবে। তাই Facebook Watch-এ না গিয়ে নিউজফিডেই ভিডিও দেখার চেষ্টা করুন।

৫. বারবার চেক করলেই যে আপলোড করা ছবি বা লেখা পোস্টে কমেন্ট এবং রিয়্যাক্ট সংখ্যা বাড়ে তা কিন্তু না। তাই দিন শেষে একবার চেক করলেই যথেষ্ট।

৬. আপনার ফোনের হোম স্ক্রিনে ফেসবুক অ্যাপই রাখবেন না। বিশ্বাস করুন, প্রতিবার অ্যাপ ড্রয়ারে গিয়ে স্ক্রল করে ফেসবুক অ্যাপ বের করার পর সেখানে লগ ইন করা – অনেক লম্বা একটা প্রসেস। তা কিছুটা হলেও ব্যবহার কমবে।

৭. সব ধরনের কাজের জন্য ফেসবুকের উপর ডিপেন্ডেন্সি কমিয়ে আনুন। যেমন, ভিডিও কলের জন্য ফেসবুক রুমের দরকার নেই – Zoom, Meet আছে। ম্যাসেজিং এর জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগনাল আছে।

এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে। আর নতুুন কিছু জানার থাকলে আমাদের জানান, আমরা সে-সব জানানোর চেস্টা করবো আমাদের সাথে যোগাযোগ


স্বীকারোক্তিঃ UipOka তে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে। সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

About the Author

উইপোকা ব্লগে বিভিন্ন শিক্ষামূলক, বিসিএস প্রস্তুতি, সকল চাকরির সার্কুলার পোস্ট করা হয়। প্রতিটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে, আমরা একটি ক্রমবর্ধমান অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কাজ করছি।

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কোন কারণ ছাড়া লিংকিং কমেন্ট করা হলে সেই সকল কমেন্ট অনুমোদন করা হবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত কারনে লিংলিংক কমেন্ট করলে সেগুলো যাচাই বাছাই করার পর অনুমোদন করা হবে। তাছাড়া আমরা সবসময় জিরো স্প্যামিং নীতি অনুসরণ করি।উইপোকার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

স্বীকারোক্তি

এই ওয়েবসাইটে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়। পোস্ট লেখার সময় অসাবধানতাবশত আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। যেকোনো অপ্রীতিকর ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং কোনো প্রকার ভুল তথ্যের জন্য UiPoka.Com দায়ী নয়।

আপনি যদি কোনো ভুল তথ্য দেখতে পান তাহলে অবিলম্বে আমাদের জানান। আমরা দ্রুত এটি ঠিক করার চেষ্টা করবো। অভিযোগ করতে এখানে ক্লিক করুন

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.