আস্সালামু আলাইকুম! আশা করি আল্লাহ এর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন।আমিও আপনাদের দোয়াই ভালো আছি। আজ আপনাদের কাছে একটা নতুন আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি। তাই কথা না বাড়িয়ে চলুন সরাসরি আর্টিকেলটির মুল অংশে প্রবেশ করি। আজকের আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলোঃ
তথ্যসুত্রঃ
এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে। আর নতুুন কিছু জানার থাকলে আমাদের জানান, আমরা সে-সব জানানোর চেস্টা করবো আমাদের সাথে যোগাযোগ
স্বীকারোক্তিঃ UipOka তে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে। সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
মাইগ্রেনের ব্যাথা বা আধ কপালি ব্যথা কাকে বলে? মাইগ্রেন কেন হয়? মাইগ্রেন রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
মাইগ্রেন যা গ্রামদেশে সাধারণভাবে ‘আধ কপালি ব্যথা’ বলে পরিচিত।মাইগ্রেন একটি শক্তিশালী মাথাব্যথা যা প্রায়শই বমি বমি ভাব এবং আলো ও শব্দ সংবেদনশীলতার সাথে ঘটে। প্রতিবার মাইগ্রেন ব্যাথা সাধারণত 4 ঘন্টা থেকে 3 দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। অর্থাৎ মাথার পুরো একপাশ জুড়ে ব্যাথা যা একপাশে শুরু হয়ে অন্যপাশেও যেতে পারে।
মাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয়?
বাস্তবিকপক্ষে মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজও কোনো স্থির সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি। ১৯৬০ সাল থেকে এই পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গিয়েছে টেনশনের কারণে অথবা মস্তিষ্কে রক্তবাহী শিরাগুলো যখন মস্তিষ্কে ঠিকমতো রক্ত সরবরাহ করে না কিংবা রক্তবাহী শিরাগুলো কখনও কোনো কারণে অতিরিক্ত রক্ত সরবরাহ করলে মাইগ্রেনের ব্যাথা হতে পারে বলে বিজ্ঞানিদের ধারণা। আবার যখন পুরোপুরিভাবে মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়, তখন বহিঃমস্তিষ্কের ধমনিগুলোর প্রসারণ ঘটে- যা মূলত রক্তের মাঝে বিদ্যমান ৫-হাইড্রেক্সি ট্রিপটামিন (5-Hydroxy Tryptamine) নামক নিউরোট্রান্সমিটার ব্রেনের উপাদানের উপস্থিতির পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
এছাড়াও মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:
১। মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যক্রম: যখন স্নায়ু ব্যবস্থা, শরীরের রাসায়নিক উপাদান এবং রক্তনালীকে আক্রান্ত করে ফেলে, তখনই এ ধরনের তীব্র ব্যথা মাথার একপাশে অনুভূত হয়। মনে করা হয় যে, মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যক্রম মাইগ্রেন হওয়ার বড় কারণ।
২। হরমোনজনিত পরিবর্তন: চিকিৎসকরা বলেন, ঋতুস্রাবের সময় নারীরা বেশি মাইগ্রেনে ভোগে। আবেগে ও নানা কারণও মাইগ্রেনের পিছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন- মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, হঠাৎ পাওয়া আঘাত, উত্তেজনা ইত্যাদি নানা কারণ থাকে যা Migraine সমস্যার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
৩। শারীরিক কারণ: মাইগ্রেনের পিছনে বেশ কিছু শারীরিক কারণ রয়েছে তন্মধ্যে ঘুম কম হওয়া, শিফটে কাজ করা, হঠাৎ করে বেশি ব্যায়াম করা, ইত্যাদি মাইগ্রেন হওয়ার কারণ হতে পারে।
৪। পরিবেশগত কারণ: আপনি যদি হঠাৎ করে গরম থেকে ঠান্ডা পরিবেশে অথবা ঠান্ডা থেকে গরম পরিবেশে যান, সেক্ষেত্রে আপনি মাইগ্রেনে ভুগতে পারেন। কিংবা, হঠাৎ করে অনেক বেশি আলোতে প্রবেশ করলেও মাইগ্রেন হওয়ার পেছনের কারণ হওয়ার সম্ভাবণা রয়েছে।
৫। খাবার: আমরা কি খাচ্ছি সেটিও অনেক সময় মাইগ্রেন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। খাবারে অনিয়ম করা, পানিশূন্যতায় ভোগা, মদ্যপান করা, চা বা কফি বেশি খাওয়া, এসব নানা ধরনের অনিয়ম মাইগ্রেন হওয়ার পেছনে বেশ বড় ভূমিকা পালন করে।
মাইগ্রেনের মাথাব্যথা কি বংশগত?
হ্যাঁ, মাইগ্রেনের মাথাব্যথা বংশগত বলে মনে হচ্ছে। যদি কোনও পিতা বা মাতার এই ধরণের মাথা ব্যথার ইতিহাস থাকে তবে তাদের সন্তানের তা পাওয়ার 50% সম্ভাবনা থাকে এবং যদি বাবা-মা উভয়েরই থাকে তবে ঝুঁকিটি 75% এ চলে যায়। একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো পুরুষের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেন ব্যাথা হওয়ার হার ৩ গুণ।
মাইগ্রেনের মাথাব্যথার লক্ষণ কি কি?
সাধারণত এ রোগীরা মাথাব্যথা শুরুর পূর্বের আধাঘণ্টা সময়ের মধ্যে নিচের লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায়ঃ
- চোখে আলোর ঝলকানি
- চোখের সামনের কিছু অংশ অন্ধকার দেখা
- রাস্তাঘাট উঁচু-নিচু, আঁকা-বাঁকা দেখা
একসময় মাইগ্রেন রোগী নিম্নোক্ত উপস্বর্গগুলো ফেইস করে
- চিন চিন বা দপ দপ করে ব্যথা
- অর্ধেক মাথায় ব্যথা
- বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া
- আলো ভীতি বা শব্দ ভীতি
মাইগ্রেনের মাথাব্যথার চিকিৎসাঃ
দুঃখের বিষয় মাইগ্রেনের কোন চিরস্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে আপনি কিছু ওষুধ এবং মাইগ্রেন ব্যাথার ট্রিগার উপাদান (যে উপাদান ব্যাথাকে প্রভাবিত করে)যেমন (পনির, চকলেট, কফি, চা ) এ গুলো পরিত্যাগ করলে ব্যাথা থেকে মোটামুটি কিছুদিন পরিত্রাণ পেতে পারেন। কিন্তু একেবারে প্রতিরোধ হবেনা। ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
এছাড়া over the counter (OTC) ড্রাগগুলি কিছু লোকের জন্য প্রায়শই ভাল কাজ করে। এই ওষুধগুলোর মূল উপাদান হলো এসিটামিনোফেন , অ্যাসপিরিন , ক্যাফিন এবং আইবুপ্রোফেন । রেয়ের সিনড্রোমের ঝুঁকির কারণে 19 বছরের কম বয়সী কাউকে কখনও অ্যাসপিরিন দেয়া হয় না।
মাইগ্রেনের ব্যাথা নিরাময়ে ঘরোয়া চিকিৎসাঃ
চিকিৎসকেরা মাইগ্রেন রোগীদের সেসকল নিয়ম পালন করতে বলে থাকেন
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পরিমিত ঘুমানো।
- অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা।
- কড়া রোদ বা তীব্র ঠান্ডা পরিহার করতে হবে।
- উচ্চশব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা।
- বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা।
- মাইগ্রেন শুরু হয়ে গেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা।
- চিন্তা ও চাপ মুক্ত থাকা।
মাইগ্রেন সমস্যায় কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
১) যদি ঘন ঘন তীব্রতর ভাবে মাথা ব্যাথা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ঘন ঘন মাথাব্যাথার সাথে যদি বমি হয়, সেক্ষেত্রেও আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আপনার যদি মাইগ্রেন থাকে, তাহলে উচ্চমাত্রার ব্যাথানাশক ঔষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এটি সামরিক আরাম দিলেও, ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে এটি মাইগ্রেনের চিকিৎসাকে অনেক বেশি কঠিন করে তোলে।
২) এক মাসে যদি পাঁচ বারের বেশি মাইগ্রেনের ব্যাথায় ভুগেন, তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে। এছাড়াও আরো কিছু গুরুতর উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে অবশ্যই সাথে সাথে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
তারমধ্যে একটি হচ্ছে- মুখ বা হাতের যেকোনো এক অংশ যদি প্যারালাইসিস হয়ে যায়, বা আপনি যদি দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
৩) কথা বলার সময় যদি সেটা অস্পষ্ট হয়, বা কথা যদি ভেঙ্গে যায়, তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এছাড়া মাথা ব্যাথার সাথে যদি তীব্র জ্বর থাকে, এর আগে হয়নি এমন তীব্র ধরনের মাথা ব্যাথা যদি হঠাৎ করেই দেখা দেয়, সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪) জ্বরের সাথে যদি মাথাব্যথা থাকে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, শরীরের রেশ দেখা যায় এবং যদি রোগী সে সময় ডাবল ভিশন দেখতে থাকে, তাহলে অবশ্যই দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। মাইগ্রেন কিন্তু একেবারেই হয়ে যায় না, মাইগ্রেনের বেশ কয়েকটি ধাপ থাকে।
মাইগ্রেনের চিকিৎসার সময় অবশ্যই রোগীর তথ্য এবং রোগের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। কোন বয়স থেকে ব্যথা শুরু হয়েছে, সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না, কী কী কাজ করলে ব্যথাটা বাড়ে, কী কী কাজ করলে ব্যথাটা কমে, পরিবারের অন্য কোনো সদস্য এই ব্যথায় ভুগছে কি না, কোন ওষুধ খেলে ব্যথাটা কমে—এসব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিতে হয়। মাইগ্রেনের চিকিৎসা দুই ধরনের। একটি হলো তাৎক্ষণিক চিকিৎসা আর অন্যটি প্রতিরোধক চিকিৎসা। তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কমানোর জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। আর প্রতিরোধক চিকিৎসায় ব্যথা যাতে না ওঠে, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ট্রিগার ,অর্থাৎ যেসব কারণে ব্যথা শুরু হয়, সেগুলো খুঁজে বের করে যদি এড়িয়ে চলতে পারা যায়, তাহলে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে পুরোপুরি রেহাই পাওয়া সম্ভব। এ জন্য অনেক সময় জীবনযাত্রারও পরিবর্তন করতে হতে পারে।
মাইগ্রেনের সাথে মাথাব্যথার সম্পর্ক কি?
করোনার মাথাব্যথার সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার কোনো সম্পর্ক নেই। মাইগ্রেনের ব্যথা ছাড়াও আরও কিছু মাথাব্যথা আছে, যার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কখনো কখনো দেখা যায় কারও হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা এবং তার সঙ্গে বমি শুরু হয়ে থাকে। আবার কারও মস্তিষ্কে ইন্টারসেরিব্রাল হেমারেজ হয়ে থাকলে মাথাব্যথা হয়। আবার মাথাব্যথার সঙ্গে শরীরের ভঙ্গি বা পশ্চারের পরিবর্তন হয় বা নাড়াচাড়া করলে ব্যথা বাড়ে বা কখনো দেখা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকেন। রুটিন ইনভেস্টিগেশনের পাশাপাশি সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করতে হবে। এতে যদি কোনো রোগ, যেমন মস্তিষ্কে টিউমার বা রক্তনালির কোনো সমস্যা ধরা পড়ে, তাহলে সেই রোগেরও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করতে হবে।
এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে। আর নতুুন কিছু জানার থাকলে আমাদের জানান, আমরা সে-সব জানানোর চেস্টা করবো আমাদের সাথে যোগাযোগ
স্বীকারোক্তিঃ UipOka তে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে। সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।


