চোখ উঠা রোগের লক্ষণ কি কি? শিশুদের এ রোগ হলে কি করবেন?
সারাদেশে ভিন্ন জেলায় "চোখ উঠা" কিংবা
"ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস" ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে।
যেভাবে সর্তক থাকবেন এবং পরিচিত বন্ধু বান্ধবী পরিবার এর সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন করবেন।
দ্রুত বিষয়টি সবাইকে জানাতে শেয়ার এবং মেনশন করে সর্তক করুন।
কনজাংটিভাইটিস বা রেড/ পিংক আই বা চোখ উঠা কাকে বলে?
চোখ উঠা একটি স্পর্শকাতর রোগ। চোখ ওঠাকে কনজাংটিভাইটিস বা রেড/পিংক আই বলে।
অর্থাৎ কনজাংটিভা নামক চোখের পর্দায় প্রদাহ হলে তাকে চোখ ওঠা রোগ বলা হয়। চোখ ওঠার মূল কারণ ভাইরাসজনিত এবং এটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে।
চোখ ওঠা রোগ কিভাবে ছড়ায়?
চোখে ভাইরাস দিয়ে প্রদাহ হলে চোখের পানিতে ভাইরাস ভেসে বেড়ায়। যখন এই অশ্রু মুছতে যাই, তখনই এটি আমাদের হাতে এসে যায়।
এরপর থেকেই সেই হাত দিয়েই আমরা যা কিছুই ছুঁই না কেন, সেখানে ভাইরাস চলে আসে। যেমন কারোর সঙ্গে করমর্দন, টিভি, এয়ারকন্ডিশনার রিমোট, ব্যবহৃত তোয়ালে, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, এমনকি মুঠোফোন ইত্যাদিতে চলে আসতে পারে।
এ জন্যই আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই সময়ে বাসায় থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রও কিছুটা আলাদা রাখা ভালো।
চোখ উঠায় আক্রান্ত কারও চোখের দিকে তাকালে কারোর চোখ ওঠে না। ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত চোখ কিছুদিন পর ভালো হয়ে যায় ঠিক, কিন্তু আশপাশে অনেককেই আক্রান্ত করে বা করতে পারে। তবে চোখ ওঠা রোগী মূলত সে তার নিজের জন্য সমস্যা নয়, বরং অন্যের জন্য সমস্যা।
কারও চোখ উঠা হয়তো তিন দিনে ভালো হয়ে যায়, কারোর আবার ৩ সপ্তাহ লাগতে পারে। সেটা নির্ভর করে কার কী ধরনের ভাইরাস আক্রান্ত করেছে এবং সেই রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন তার ওপর।
চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস রোগ হলে ভয় পাওয়ার একদমই কোন কারণ নেই তবে সচেতন থাকতে হবে যাতে কারো মাধ্যমে এটি না ছড়ায়।
চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস রোগে করনীয়ঃ
চোখে উঠলে চোখে নোংরা পানি, ধুলাবালি, দূষিত বাতাস যেন প্রবেশ না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এ ছাড়া সকালে ওঠার পর চোখে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। অনেকে চোখ উঠলে বারবার পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন বা চোখে পানির ঝাপটা দেন
চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস রোগের লক্ষণগুলোঃ
- চোখের চারপাশে হালকা লাল রং হতে পারে।
- চোখের পাতা ফুলে যায়।
- চোখ জ্বালাপোড়া করতে পারে।
- চোখ থেকে পানি পড়তে পারে।
- চোখ থেকে ঘন হলুদ অথবা সবুজাভ হলুদ রঙের ময়লা জাতীয় পদার্থ বের হতে পারে।
- সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চোখের দুই পাতা লেগে থাকে।
চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস রোগে নবজাতকের চিকিৎসাঃ
নবজাতকের চোখ উঠা একটি বিশেষ বিষয়। ওষুধপত্র দিলেও নবজাতকের চোখ দুই-তিনদিন লাল অথবা ফোলা থাকতে পারে। যদি লালাভ রং এবং ফোলা দীর্ঘসময় ধরে থাকে তখন অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।
চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস রোগের প্রতিকারঃ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস পরিবারের একজনের থেকে অন্যজনের হতে পারে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধের জন্য পরিবারের সবার পৃথক কাপড়, তোয়ালে থাকতে হবে।
- পুরো হাত ভালোমতো পরিষ্কার করতে হবে।
- যেসব বিষয় শিশুর জন্য এলার্জিক তা থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে।
- চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস রোগ প্রতিরোধ:
- চোখ উঠা রোগ থেকে বাঁচতে হলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা মেনে চলা উত্তম। প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো হল:
- এক জনের ব্যবহৃত তোয়ালে অন্যজন ব্যবহার না করা।
- আক্রান্ত চোখ স্পর্শ করলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
- ডাক্তারের পরামর্শমত সঠিকভাবে সঠিক সময় ঔষধ নেয়া।
- ঘনঘন চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকা ও চোখে বার বার পানির ঝাপসা না দেয়া।
- অসুস্থ চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা যাবে না।
- ধূলা-বালি ও সূর্যের আলো থেকে চোখ রক্ষায় কালো সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে।
- পুকুরের পানিতে গোসল করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- চোখ উঠা ছোঁয়াচে রোগ। তাই পরিবারের অন্যান্যদের সাথে মেলামেশা কমানো উচিৎ।
শিশুদের চোখ উঠলে কি করবেন?
শিশুদের চোখ উঠলে হালকা বা কুসুম গরম পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করতে হবে। চোখের পাতা খোলা রাখতে হবে। তবে জোর করে চোখ খোলার চেষ্টা করবেন না।
শেষকথাঃ
চোখের যেকোনো রোগেই অবহেলা করবেন না। কারণ সামান্য ভুলের জন্য সারাজীবন আফসোস করা লাগতে পারে। উপরের পরামর্শগুরো কেবলই সচেতনতার জন্য। চোখের যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
সূত্র: জাতীয় ই-তথ্যকোষ
সাইবার ৭১
quara.com
এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে।
