রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
মানবদেহ এবং অন্যান্য প্রাণীদেহের রোগ বালাই প্রতিরোধ বা প্রতিকার করার ক্ষেত্রে প্রাচীনকাল থেকে আজকের বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উঠে আসে কিছু গাছের নাম। আমাদের জীবন ধারনের জন্যেও গাছের ভূমিকা সবারই জানা। আর সুস্থ্য থাকার ক্ষেত্রেও কিছু ঔষধি গাছ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
অর্জুন গাছের উপকারিতাঃ
হজম ক্ষমতা বাড়ায়
অনেক লোক আছে যাহাদের হজম ক্ষমতা খুব কম। আর এর জন্য তাদের ডায়রিয়া বা অন্যান্য পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তারা প্রতিদিন ৩০-৪৫ গ্রাম অর্জুন গাছের ছাল খেতে পারেন। কারণ অর্জুন গাছের ছাল হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে
যারা হূদরোগে আক্রান্ত তারা যদি অর্জুন গাছের ছাল দিয়ে অর্জুন চা বানিয়ে খায় তাহলে তাদের হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অর্জুন গাছের ছাল হৃদরোগের ঔষদ হিসাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। DOS থেরাপি অনুযায়ী অর্জুন ফল দেখতে মানবদেহের হৃদপিন্ডের মত, তাই অর্জুনকে হৃদরোগের মহৌষধ বলা হয়।মুখ, জিহ্বা ও মাড়ির রক্ত ক্ষয় বন্ধ করে
অনেক লোক আছে যাদের মুখ,জিহ্বা ও মাড়ির থেকে মাঝেমধ্যে রক্ত পড়া শুরু করে। তাহারা যদি অর্জুন চা বানিয়ে খায় তাহলে তাদের মুখ,জিহ্বা ও মাড়ির থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।রক্ত আমাশয় ভালো করে
আমাদের মধ্যে অনেকের রক্ত আমাশয় রয়েছে তাহারা যদি প্রতিদিন ৫-৬ গ্রাম অর্জুন গাছের ছাল ছাগলের দুধের সাথে মিশিয়ে খায় তাহলে তাদের রক্ত আমাশয় ভালো হবে।যৌন সমস্যা দূর করে
যাদের যৌন সমস্যা রয়েছে তারা যদি প্রতিদিন এক কাপ দুধের সাথে ৪-৫ গ্রাম অর্জুন গাছের ছাল মিশিয়ে খায় তাহলে তাদের যৌন সমস্যা ভালো হবে।কানের ব্যথা ভালো করে
যাহাদের কানে ব্যথা রয়েছে তারা যদি কানের মধ্যে অর্জুন গাছের পাতার রস বানিয়ে দুই ফোঁটা করে দেয় তাহলে তাদের কানের ব্যথা ভালো হয়ে যাবে।ক্ষত বা ঘা ভালো করে
আমাদের শরীরের কোথাও ক্ষত বা ঘা দেখা দিলে যদি আমরা ওই ক্ষতস্থানে অর্জুন গাছের ছালের রস ব্যবহার করি তাহলে তা খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।মুখের ব্রণ দূর করে
আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের মুখের ব্রণের কারণে তাদের চেহারা খুব ফ্যাকাশে দেখায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য তাহারা অর্জুন গাছের ছালের গুড়ার সাথে মধু মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারে এতে করে তাদের এই সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে। এছাড়াও এটি মেছতার দাগ মুছে ফেলতে সাহায্য করে।দূর্বাঘাসের ঔষধি গুনঃ
১) শরীরের কোন স্থানে আঘাত জনিত কারনে রক্তক্ষরণ হলে সেই স্থানে দুর্বা ঘাস পিষে প্রলেপ দিলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্রুত শুকিয়ে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে দুর্বার থেকে দুর্বার শিকড় ব্যবহার করলে বেশী উপকার পাওয়া যায়।
২। যারা পায়োরিয়া রোগে ভুগছে তারা যদি দুর্বা ঘাস শুকিয়ে গুড়ো করে সেই গুড়ো দিয়ে দাঁত মাজেন দেখবেন পায়োরিয়া রোগ সেরে যাবে।
৩। চুল পড়ার সমস্যা কম বেশি সাবাই ভোগে।তাই চুল পড়ার প্রতিরোধে করতে হলে একটি পাত্রে এক লিটার নারিকেল তেল মৃদুতাপে জ্বাল করে ফেনা ফেলে নিতে হবে। তারপর দুর্বার ঘাসের টাটকা রস ২০০ মিলি সম্পূর্ণ তেলে মিশিয়ে পুনরায় জ্বাল দিয়ে সেটিকে ছেঁকে নিয়ে তা সংরক্ষণ করতে হবে। তারপর প্রতিদিন স্নানের ১ ঘন্টা আগে ঐ তেল চুলে মাখতে হবে।আপনারা নিয়মিত ২-৩ মাস এই তেল ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
৪। দূর্বা বমি ভাব কমাতেও সাহায্য করে।তাই বমি বমি ভাব বন্ধের জন্য দুর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ এবং ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে ১ ঘন্টা পর পর খেলে বমি ভাব কেটে যাবে।আর বমি ভাব কেটে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
৫। আমাশয় রোগের দূর করতে দুর্বা ঘাস উপকারিতা আসামান্য।তাই যারা আমাশয় রোগের ভোগেন তাদের দুর্বা রস ২-৩ চামচ ডালিম পাতা কিংবা ডালিমের ছালের রস ৪-৫ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন ৩-৪ বার খেতে হবে। এভাবে নিয়মিত ১০-১৫ দিন খেলে আমাশয় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।৬।যাদের অধিক ঋতুস্রাব রোগের সমস্যা আছে তাদের দুর্বা ঘাসের রস ২-৩ চামচ প্রতিদিন মধু মিশিয়ে ৩-৪ বার খেতে হবে। এভাবে নিয়মিত ১০-১৫ দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
৭। দুর্বা ঘাসের রস রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে।
৮। দুর্বা ঘাস রক্ত পিত্তে মতো রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।তাই এই রোগে শুধু মাত্র মুখ, নাক দিয়েই নয় শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে রক্তস্রাব হতে পারে।আর এক্ষেত্রে দুর্বা ঘাসের রসের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে খাওয়ালে এই রোগ থেকে উপশম পাওয়া যায়।
লজ্জাবতী গাছের ঔষধি গুনঃ
১) দাঁতের মাড়ির ক্ষতে : পাতাসহ ডাঁটা ১০/১২ গ্রাম নিযে ক্বাথ তৈরি করে ১০/১৫ মিনিট সময় ধরে মুখে ধারন করতে হবে। এভাবে প্রতিদিন দুই বা তিনবার।
২) সাদা আমাশয় : সাদা আমাশয়ে লজ্জাবতীর পাতাসহ ডাঁটা ১০ গ্রাম এক গ্লাস পানিতে সিদ্ধ করে খেতে হবে সকাল-সন্ধ্যায়। দুই/তিন দিনে না সারলে অবশ্যই অভিজ্ঞ বা পাশ করা কোন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
৩) অর্শ রোগে : অর্শের বলি জ্বালাপোড়া করলে মূলসহ গাছ ১০ গ্রাম, দুধ এক কাপ এবং তিন কাপ পানি একত্রে সিদ্ধ করে যখন এক কাপে আসবে তখন ছেঁকে নিয়ে সকাল-বিকেল খেতে হবে।
৪) যোনিপথে ক্ষত সারে : যে কোন কারণেই যোনিপথে ক্ষত হোক না কেন, সেক্ষেত্রে দুধ জলের সঙ্গে লজ্জাবতীর ক্বাথ করে খেতে হবে। অন্তত দুই বার খেতে হবে। খাবার পর একই সঙ্গে লজ্জাবতীর ক্বাথ দিযে ডুশ দিলে বা যোনিপথ ধুলে তাড়াতাড়ি ক্ষত সেরে যায়।
৫) পিত্ত বিকার : অনেক সময় জ্বরের সময় হাত-পা জ্বালা করে। সাধারণত এটা বর্ষা ও শরৎ কালে পিত্ত বিস্তারের ফলে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সমগ্র গাছটিকে ক্বাথ করে খেলে ঋতুগত পিত্ত বিকার উপশম হয়।
৬) কানে ব্যথা : লজ্জাবতী গাছের সিদ্ধ ক্বাথ তৈল দ্বারা পাক করে কানে ব্যবহার করলে কানে পুঁজ পড়া বন্ধ হয়।
৭) কলেরা নিরাময় : লজ্জাবতী সম্পূর্ণ গাছের (মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল) ক্বাথ ও চিনি একত্রে মিশিয়ে খাওয়ালে অর্শ, আমাশয় ও কলেরা দ্রুত নিরাময় হয়।
৮) পাথুরী রোগে সারে : ইহার শিকড়ের ক্বাথ পাথুরী রোগে ব্যবহৃত হয়।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
৯) দূষিত ক্ষত : ইহার পাতা মিহি করে বেটে এক পোয়া আন্দাজ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে একটানা পক্ষকাল খেলে দূষিত ক্ষত ভাল হয়।
১০) জামার দাগ দূর করে : অনেকের বগলতলা ঘেমে জামা ও গেঞ্জিতে হলদে দাগ লাগে। এক্ষেত্রে গাছের ক্বাথ দ্বারা শরীর ও বগল মুছে ফেললে এ দাগ চলে যায়।
১১) প্লেগ রোগ : রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে লজ্জাবতীর ব্যবহার আছে। লজ্জাবতীর গাছ প্লেগ রোগের একমাত্র মহৌষধ।
১২) জন্মনিয়ন্ত্রকরোধে : লজ্জাবতীর মূল নিয়মিত খেলে জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
১৩) পঁচে যাওয়া ক্ষত দূর করতে : পুরানো ঘায়ে মাংস পঁচে ক্ষয়ে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে লজ্জবতীর ক্বাথ একটু ঘন করে দিয়ে তিন/চার বার কয়েকদিন ব্যবহার করলে ঘায়ের পঁচা অংশ থাকবে না।
মানব দেহে অশ্বগন্ধার প্রভাবঃ
১. অনিদ্রা দূর করে
আমরা আগেই জেনেছি ক্লান্তি দূর করে স্নায়ুকে আরাম প্রদান করতে অশ্বগন্ধা খুবই কার্যকারী একটি ঔষধি ভেষজ। এর ফলে ঘুম খুব ভাল হয়। বিভিন্ন গবেষণার থেকে জানা যায় যে, অশ্বগন্ধা ব্যবহার করলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
২. স্ট্রেস কমায়
অশ্বগন্ধায় অ্যানজাইলটিক উপাদান উপস্থিত থাকে বলে এটি মানসিক চাপকে কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।অর্থাৎ এটি স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করতে সক্ষম। আপনি যদি খুব ভয় পেয়ে যান কোনো কারণে তাহলে প্যানিক অ্যাট্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, এই সমস্যা এড়াতে অশ্বগন্ধা সাহায্য করে।
৩. কোলেস্টেরল দূর করে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা হয়, অশ্বগন্ধা ভেষজ মানব শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে পেশির শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. অশ্বগন্ধা কাম উত্তেজনা সৃষ্টিতে সহায়ক
প্রাচীনকাল হতে অশ্বগন্ধা একটি আফ্রোডাইজিয়াক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিংবদন্তি শাস্ত্র কাম সূত্রে অশ্বগন্ধাকে অত্যন্ত শক্তিশালী যৌন উত্তেজক ভেষজ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসলে, অশ্বগন্ধা ভেষজ আফ্রোডাইজিয়াক পণ্যগুলির মধ্যে একটি অনন্য। অশ্বগন্ধা কামাকাঙ্ক্ষা হ্রাস এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় কার্যকরী ভেষজ হিসেবে স্বীকৃত। পুরুষরা যখন অশ্বগন্ধা সেবন শুরু করেন, তখন তাদের দেহে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং তৃপ্তির বৃদ্ধি ঘটায়।
৫. যৌনক্ষমতা বাড়ায়
এটি প্রমাণিত যে অশ্বগন্ধা শরীরে টেস্টোস্টেরন ও প্রোজেস্টেরনের পরিমান বাড়াতে পারে। ফলে যৌন মিলনের ইচ্ছে বাড়ে। প্রাচীনকাল থেকেই ছেলেদের যৌনসমস্যা দূর করতে অশ্বগন্ধা ব্যবহার করা হয়।
৬. রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্র বাড়ায়
বিজ্ঞানীরা প্রমান করেছে অশ্বগন্ধা রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াতে পারে। টেস্টোস্টেরনকে বলা হয় সেক্স হরমোন। এটি পুরুষের লিঙ্গ দৃঢ় করে এবং কামাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে। পুরুষদের বয়স বাড়তে থাকলে তাদের দেহে টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পায়। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে রক্তে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমে যেতে পারে। অশ্বগন্ধা লুটেইনিজিং হরমোন এবং টেস্টোস্টেরনের সিরামের মাত্রা বৃদ্ধি করে, ফলে পুরুষের যৌন হরমোনগুলির প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে বজায় থাকে। অশ্বগন্ধা করটিজলের বৃদ্ধি রোধ করে স্ট্রেস হ্রাস করতে পরিচিত, করটিজল প্রাকৃতিক টেস্টোস্টেরন উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
৭. সহনশীলতা বাড়ায়
অশ্বগন্ধা শারীরিক পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও করাতে কাজ করে। নিয়মিত অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে ধৈর্য্যশীলতা, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ও সহনশীলতা প্রভৃতির উন্নতি ঘটে।
৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
অশ্বগন্ধায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকার ফলে এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেক সাহায্য করে।
৯. থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে
হাইপোথাইরয়েডের অর্থাৎ যাদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমান কম থাকে তাদের এই সমস্যা দূর করতে ব্যবহৃত হয় অশ্বগন্ধা। শরীরে থাইরক্সিন হরমোনের পরিমান বাড়ায় এই অশ্বগন্ধা।
১০. চোখের সমস্যা কমাতে
প্রাচীনকালে চোখের স্বাস্থ্য ভালো করতে অশ্বগন্ধা ব্যবহার করা হত বলে জানা যায় ।
১১. আর্থ্রাইটিস সারাতে
আর্থ্রাইটিস এর ব্যথার তীব্রতা কমাতে অশ্বগন্ধার গুঁড়ো খুবই উপযোগী। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আর্থ্রাইটিস সারাতে অশ্বগন্ধা ব্যবহৃত হয়।
১২. ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে
অশ্বগন্ধা ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকর ফলাফল দেয়।আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মতে অশ্বগন্ধার পাতা ও মূলের নির্যাসে উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যালস টিউমার কোষকে ধ্বংস করতে ও সেই কোষে রক্ত সরবারহ বন্ধ করে দেয় ।ক্যান্সারের সময় কেমোথেরাপির মধ্যে দিয়ে যাদের যেতে হয়, তাদের জীবনের মানের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে অশ্বগন্ধা।
১৩. ডায়াবেটিসের সমস্যা কমাতে
অশ্বগন্ধার মূল ও পাতার নির্যাস অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান থাকে। এই অংশের কোষে যে ফ্ল্যাভোনয়েডস থাকে তা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও অশ্বগন্ধা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে লিপিডের পরিমান ঠিক রাখতে সাহায্য করে বলে জানা গেছে।
১৪. স্মৃতিশক্তি উন্নত করে
যাদের অ্যালজাইমারস রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রেও অবস্থার উন্নতিতে অশ্বগন্ধা কাজ করে।
১৫. পেশী মজবুত করে
অশ্বগন্ধা পেশী মজবুত করতে যে কার্যকরী ফলাফল দেয়। পেশিতে কোনো আঘাত পেলে সেটি তা সারাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্যায়াম করার ফলে পেশিতে যে চাপের সৃষ্টি হয় তা কমাতেও অশ্বগন্ধা ব্যবহৃত হয়।
১৬. ইনফেকশন থেকে বাঁচায় অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধার নানা ধরণের ইনফেকশন থেকে আমাদের বাঁচাতে সাহায্য করে কারণ এর পাতা ও মূলে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এর মত উপাদান।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
১৭. হার্টের সুরক্ষায় অশ্বগন্ধা
আমাদের শরীরে রক্ত চলাচল সঠিক রেখে আমাদের হার্টকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে অশ্বগন্ধা।
১৮. শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে
অনেকে মনে করেন অশ্বগন্ধার মূলের গুঁড়ো শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি এখনও প্রমানিত নয়।
১৯. অবসাদ কমাতে
অশ্বগন্ধায় অ্যাড্যাপটোজেন থাকায় এর নির্যাস অবসাদ ও মনের উদ্বেগ কমাতে উপযোগী।
২০. খুশকি কমাতে
বেশিরভাগ খুশকি কমানোর শ্যাম্পুতে অশ্বগন্ধা থাকে কারণ অশ্বগন্ধার গুঁড়ো দিয়ে তৈরী তেল ও শ্যাম্পু খুশকি কমাতে অনবদ্য কাজ করে।
২১. অকালে চুল পাকা আটকাতে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী অশ্বগন্ধা গাছের নির্যাস অকালে চুল পাকা আটকাতে খুবই উপকারী।
২২. চুলকে মজবুত করতে
চুলকে ঝলমলে ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অশ্বগন্ধাকে খুবই উপযোগী বলে মানা হয়।
২৩. বার্ধ্যকের ছাপ দূর করতে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মনে করা হয় অশ্বগন্ধা গাছের নির্যাস বার্ধ্যকের ছাপ পড়তে দেয় না।
২৪. ক্ষত সারাতে
অশ্বগন্ধার ভিতর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকার ফলে এটি শরীরের ক্ষত সারাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
২৫. কর্টিসল লেভেল কমাতে
মানব শরীরে অ্যাডরিনালিন গ্ল্যান্ডের কোনো সমস্যা থাকলে রক্তে কর্টিসলের পরিমান কম বেশি হয়, এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে অশ্বগন্ধা ভালো সাহায্য করে।
২৬. মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে
অশ্বগন্ধার হল এডাপ্টোজেন যার অর্থ হল অশ্বগন্ধা আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সক্ষম।
২৭. ত্বকের ইনফেকশন ঠিক করতে
অশ্বগন্ধার পাতা এবং মূলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার ফলে এটি ত্বকের ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
হলুদের স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ
কাঁচা হলুদ একটি প্রাকৃতিক এন্টিসেপ্টিক। তাই কাঁটা এবং পোড়া জায়গায় হলুদ বাটা লাগালে অনেক উপকার পাওয়া যায় ও তাড়াতাড়ি ব্যথা এবং দাগের উপশম ঘটে।
হলুদ যখন ফুলকপির সাথে মিলিত হয় তখন এটা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং বিদ্যমান প্রস্টেট ক্যান্সারের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধকারী ও অন্ত্রের ক্যান্সার নিরাময়কারী।
মেলানোমা প্রতিরোধ এবং আত্মহত্যা করতে মেলানোমা কোষ বিদ্যমান হতে পারে।
শিশুদের লিউকেমিয়া ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
হলুদের প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য বাত এবং ফোলানো বাত এর জন্য একটি প্রাকৃতিক চিকিত্সা।
হলুদ কেমো ড্রাগ এর প্রভাব এবং তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হ্রাস করে
গবেষণা দেখা গেছে, হলুদ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার উপশমে চমৎকার কাজ করে।
টিউমার হওয়া বন্ধ ও নতুন রক্ত উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
হলুদের গাঠ পিষে, ঘিয়ে ভেজে চিনি মিশিয়ে কিছু দিন খেলে (নিয়মিত) ডায়াবেটিস সারে। প্রমেহও সারে।
এটি চর্বি বিপাকে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
দীর্ঘ বিষণ্নতা জন্য একটি চিকিত্সা হিসাবে চীনা দেশে হলুদেরর ঔষধ ব্যবহার করা হয়।
যেকোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, র্যা শ, চুলকানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
হলুদের মানসিক অবসাদ রোধ করতে ব্যবহৃত অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্টের কাজও করে । এ ছাড়া, এই উপাদানে রয়েছে অ্যাস্পিরিনের গুণ। এর প্রয়োগে ভ্যাস্কুলার থ্রম্বোসিস আক্রান্ত রোগীর রক্তের ঘনত্বের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ দেয় হলুদ। কাশি কমাতে হলে হলুদের রস খেয়ে নিন কয়েক চামচ, কিংবা এক টুকরো হলুদের সাথে মধু মাখিয়ে তা মুখের মাঝে রেখে আস্তে আস্তে চুষতে পারেন। সেটা করতে না পারলে এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে হলুদের গুঁড়ো, সামান্য মাখন এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। কয়েকবার সেবনেই নিরাময় হবে। কাশি ও গলা ব্যথা উভয়েই দূর হবে।
হলুদের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি নানা পদার্থ রয়েছে। তাই হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যেমন বাচ্চাদের লিউকমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় নিয়মিত কাঁচা হলুদের রস সেবন। প্রতিদিন দুধ বা পানির সাথে হলুদের গুঁড়ো বা রস মিশিয়ে খাওয়া অভ্যাস করলে অনেকটাই সুস্থ থাকা সম্ভব।
হলুদ গায়ের ত্বক ফর্সা ও লাবণ্যময় করে তোলে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে, ধীরে ধীরে ত্বকের রঙ ফর্সা হয়।
হলুদের অন্য এক উপাদান ‘পলিফেনল’ চোখের অসুখ ‘ক্রনিক অ্যান্টিরিয়ার ইউভেইটিস’ সারাতে কর্টিকোস্টেরয়ডের কাজ করে। উল্লেখ্য, এই রোগের প্রকোপে চোখে প্রচণ্ড জ্বালা ও প্রদাহ দেখা যায়।
মুখে জ্বালা-পোড়া করলে গরম পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে কুলকুচি করুন।
শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে লাগাতে পারেন।
সূর্যের তাপে গা জ্বলে গেলে হলুদের পাউডারের মধ্যে বাদামের চূর্ণ এবং দই মিশিয়ে লাগান।
আয়ুর্বেদিক মতে, হলুদ রক্ত শুদ্ধ করে।
পেটের বায়ু ও পুরাতন ডায়রিইয়াঃ পেটে বাতাস হলে ও পুরনো ডায়রিয়ায় হলুদের গুঁড়ো বা রস পানিসহ খেলে খুবই উপকার হয়।
পেটের পীড়াঃ পেটের সংক্রমণ দমনে হলুদ খুবই কার্যকর। মাখন বা দুধের সাথে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে উপকার মেলে।
কৃমিঃ কাঁচা হলুদের রস ১৫-২০ ফোঁটা (বয়সানুপাতে) সামান্য লবণ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হয়। কৃমি দমনে কার্যকর ওষুধ, তাই একে কৃমিঘ বা কৃমিনাশকারীও বলে।
লিভারের দোষঃ পাণ্ডু রোগে (জন্ডিস) গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে আসছে বুঝতে পারলে হলুদের রস ৫ থেকে ১০ ফোঁটা থেকে শুরু করে বয়সানুপাতে ১ চা চামচ পর্যন্ত একটু চিনি বা মধু মিশিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা বহু আগে থেকে চলে আসছে। আবার একটু হলুদ গুঁড়া তার দ্বিগুণ পরিমাণ দইয়ে মিশিয়ে খেলে পিলে ও যকৃতের দোষ এবং জন্ডিস সারে। মধুসহ হলুদ খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
তোতলামিঃ ছোটবেলায় যাদের কথা আটকে যায় বা স্বাভাবিকভাবে তাড়াতাড়ি কথা বলার অভ্যাস, সে ক্ষেত্রে হলুদকে গুঁড়ো করে (কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করতে হবে) তা দুই-তিন গ্রাম পরিমাণে এক চা চামচ ঘিয়ে একটু ভেজে সেটাকে দুই-তিনবার চেটে চেটে খাওয়াতে হয়। এতে তোতলামি কমে যায়।
শ্লিপদ / ফাইলেরিয়াঃ এ অবস্থায় এক চা চামচ হলুদের রস অল্প গুড় ও এক চা চামচ গরুর পেশাব খাওয়াতে বিধান কবিরাজ চক্রপানি দত্তের। এটি আমবাতেও ব্যবহার করা হয়।
হামজ্বরঃ ক- এ জ্বরে কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করে সাথে করলা পাতার রস ও অল্প মধু মিশিয়ে খাওয়ালে তা সারে।খ- হলুদের শিকড় রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে এক চা চামচ মধু ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেলে হাম সারে।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
কোষ্ঠবদ্ধতা, হজমে দুর্বলতাঃ মধু মিশিয়ে হলুদের গুঁড়ো খেলে এসব রোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
পিপাসা বা তৃষ্ণাঃ পাঁচ-সাত গ্রাম কাঁচা হলুদ থেঁতলে নিয়ে দেড় কাপ আন্দাজ পানিতে ৫-১০ মিনিট সিদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে ওই পানি চিনিসহ অল্প অল্প করে পান করলে শ্লেষ্মাজনিত পিপাসা চলে যায়।
হাঁপানিঃ হলুদ গুঁড়ো, আখের গুড় ও খাঁটি সরিষার তেল এক সাথে মিশিয়ে চাটলে হাঁপানি একটু উপশম হয়। এ ছাড়া এক চা-চামচ হলুদের গুঁড়ো এক গ্লাস দুধে মিশিয়ে দিনে দুই-তিনবার খেলে ভালো উপকার মেলে। এটি খালি পেটে খাওয়া ভালো।
নাকের ক্ষতঃ নাকের ভেতর ক্ষত হলে হলুদ গুঁড়ো মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
স্বরভঙ্গঃ কোনো সাধারণ কারণে স্বরভঙ্গ হলে দুই গ্রাম আন্দাজ হলুদের গুঁড়ো চিনির শরবতে মিশিয়ে একটু গরম করে খেলে চমৎকার উপকার হয়। গরম দুধে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো দিয়ে রাতে খেলে স্বরভঙ্গ ও গলাবসা ঠিক হয়ে যায়।
জোঁকে ধরাঃ জোঁকের মুখে হলুদ বাটা বা গুঁড়ো দিলে জোঁকও ছাড়ে, সেই সাথে রক্ত পড়াও বন্ধ হয়।
ব্রণ দূর করতেঃ হলুদের মধ্যে এন্টিসেপ্টিক এবং এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকে যেটি ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। এটি শুধু ব্রণই দূর করে না, তার সাথে ব্রণের দাগ এবং লোমকূপ থেকে তেল বের হওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দেয়। কাঁচা হলুদ বাটা, চন্দন গুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে একটি মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তাছাড়া ব্রণের উপর কাঁচা হলুদ বাটা এবং পানি মিশিয়ে দিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য রাখুন। ব্রণ তাড়াতাড়ি চলে যাবে।
বলিরেখা দূর করতেঃ হলুদ ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। ২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়া, চালের গুঁড়া, টমেটো রস, কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ফাইন লাইন্স এবং ঝুলে পড়া ত্বক কে স্বাভাবিক করতে, ত্বক কে ফর্সা করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
চোখের নীচে কালো দাগ দূর করতেঃ ২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়ার সাথে মাখন মিশিয়ে চোখের নীচে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। এটি চোখের নীচে বলিরেখা সহ কালো দাগও দূর করবে।
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
বয়স ধরে রাখাঃ ১ দিন পর পর বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা, টক দই মিশিয়ে মুখ সহ সারা শরীরে লাগিয়ে রাখুন শুকানো না পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে ঘড়ির কাটার উলটো দিকে স্ক্রাব করে মাসাজ করুন। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করার সাথে সাথে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে ।
স্ট্রেচ মার্ক দূর করতেঃ ত্বকের মোটা হয়ে যাওয়ার ফাটা দাগ, প্রেগ্নেন্সির স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে বেসন, কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ঐ নিদিষ্টও জায়গায় লাগালে ধীরে ধীরে দাগ কমতে শুরু করে।
ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতেঃ প্রতিদিন ময়দা এবং কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে স্ক্রাব করলে, ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম ধীরে ধীরে কমে আসবে।
পায়ের গোড়ালির ফাটা দাগ দূর করতেঃ গোসলের যাওয়ার আগে কাঁচা হলুদের সাথে, নারিকেল তেল অথবা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে পায়ের ফাটা দাগ কমবে, পায়ের ত্বক সুন্দর এবং নরম থাকবে
স্বর্ণলতার ভেষজ উপকারিতাঃ
অরুচি ভাব দূর হয় :
কারও মুখে অরুচি দেখা দিলে বা খেতে ইচ্ছা না করলে স্বর্ণ্লতা সিদ্ধ করে সেই পানি সেবন করলে অরুচি ভাব কেটে যায়।মুখের ঘা সারাতে :
মুখে ঘা হলে স্বর্ণ্লতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করলে ঘা দ্রুত ভালো হয়।বায়ুনাশে সমস্যা হলে :
পেটের বায়ুনাশে সমস্যা দেখা দিলে স্বর্ণ্লতার বীজ চূর্ণ্ করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।কৃমি ভালো হয় :
স্বর্ণ্লতা গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে সেই বীজ চূর্ণ্ করে খেলে কৃমি ভালো হয়।ক্ষত দ্রুত ভালো হয় :
ক্ষতে স্থানে স্বর্ণ্লতা পিষে প্রলেপ দিলে ক্ষত দ্রুত ভালো হয়।জন্ডিস ভালো হয় :
প্রথমে স্বর্ণ্লতা সংগ্রহ করে থেতো করতে হবে। এবার থেতো করে সেবন করলে জন্ডিস রোগ ভালো হয়।রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
ধুতরাগাছের উপকারীতাঃ
১) গাঁটে ব্যথার উপশমে ধুতুরার ব্যবহার করা হয়৷ এর পাতা এবং রস ব্যথআ কমাতে খুবই সাহায্য করে৷
২) কানের প্রদাহ সারাতে এই ধুতুরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ এর পাতার রস মূলত কানের প্রদাহ সারাতে ব্যবহার করা হয়৷
৩) কাঁকড়াবিছের কামড়ে উপশমে সাহায্য করে ধুতুরা৷
৪) চোখের ব্যাথাতে ধুতুরা পাতার রস এবং নিম পাতার রস মিশিয়ে লাগালে উপশম পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ধুতুরার ব্যবহার করা উচিত হবে না৷
৫) ধুতুরার বীজ জ্বর, সর্দি কমাতে সাহায্য করে, এবং কফ দবর করতেও সাহায্য করে৷
ধুতুরার বহুবিধ ব্যবহার থাকলেও এটি বিষাক্ত হওয়ায় খুব সাবধানে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা উচিত৷ তবে এর ঔষধি গুনের কারণে বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে৷ তাই বাণিজ্যিক লাভের কারণে অনেকেই ধুতুরার চাষ করে থাকেন
রোগ নিরাময়ে ৮টি ঔষধি গুন সমৃদ্ধ গাছের ব্যবহার | Use of 8 medicinal plants to cure diseases
শতমূলী গাছের উপকারিতাঃ
১) রক্ত দূষিত হলে : নানা কারণে আমাদের শরীরের রক্ত দূষিত হয়ে বিভিন্ন ব্যাধীর সৃষ্টি হয়। যেমন- চুলকানী, দাঊদ, ফোঁড়, খোস-পাঁচড়া. বহুমূত্র ইত্যাদি। এ সময় দুই/তিন গ্রাম শতমূলীর গুঁড়ো রোজ সকালে ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে একবার খেলে দূষিত রক্ত পরিষ্কার হয়ে যাবে।
২) রাতকানা রোগ : এ রোগে আক্রান্ত হলে চারা থেকে ছয় গ্রাম শতমূলীর টাটকা পাতা সামান্য ঘি দিয়ে ভেজে রোজ সকালে একবার করে খেলে এই রোগ থেকে মুক্ত পাওয়া যায়।
৩) মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে : দশ মি.মি. টাটকা শতমূলীর রস, ৫০ মিলিলিটার জ্বাল দেওয়া গরুর দুধ, দুই চামচ চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুইবার (সকাল ও সন্ধ্যা) করে খেতে হবে।
৪) প্রস্রাবে কষ্ট : পাথুরী নয় অথচ প্রস্রাব করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া প্রস্রাবের পরিমানও খুব কম। এ অবস্থায় শুকনো শতমূলীর গুঁড়ো দেড় গ্রাম ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল ও বিকেলে খেলে প্রস্রাবের কষ্ট দূর হবে।
৫) স্বপ্নদোষ : শতমূলীর রস একটা স্টিলের কড়াইতে রেখে তাতে ১০০ মিলিলিটার গাওয়া ঘি দিয়ে পাক করতে হবে। তিন গ্রাম এ ঘি দিয়ে আধা কাপ গরম গরুর দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দুইবার খেতে হবে।
৬) স্নায়ুশক্তি বৃদ্ধি ও শারীরিক দুর্বলতায় : শতমূলীর রস ১৫-২০ মি.লি. ও এক গ্লাস পরিমাণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকেল খেতে হবে।
তথ্য সুত্রঃ
একুশে টিভি
Khalis food
ন্যাচারালস
priyocareer
এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে। আর নতুুন কিছু জানার থাকলে আমাদের জানান, আমরা সে-সব জানানোর চেস্টা করবোআমাদের সাথে যোগাযোগ
স্বীকারোক্তিঃ এখানে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে। সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং একথাও উল্লেখ থাকে যে এখান থেকে প্রাপ্ত কোন ভুল তথ্যের জন আমরা কোনভাবেই দায়ী নই এবং আপনার নিকট দৃশ্যমান ভুলটি আমাদেরকে নিম্নোক্ত মেইল / পেজ -এর মাধ্যমে অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।






