আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত বলছি - ফুয়াদ স্বনম | বাংলা কবিতা

আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত বলছি - ফুয়াদ স্বনম | বাংলা কবিতা, আমার বেশ মনে আছে, বাবা খুব ভোরে বেড়ুতেন আর ফিরতেন সবার ঘুমাবার পর। নাহ প্রতিদিনই নয়,
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated
আসসালামু আলাইকুম! আশা করি আল্লাহ এর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন।আমিও আপনাদের দোয়াই ভালো আছি। আজ আপনাদের কাছে একটা নতুন আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি। তাই কথা না বাড়িয়ে চলুন সরাসরি আর্টিকেলটির মুল অংশে প্রবেশ করি। আজকের আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলোঃ

আমি, নিম্ন-মধ্যবিত্ত বলছি 
ফুয়াদ স্বনম 

আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত বলছি - ফুয়াদ স্বনম | বাংলা কবিতা


আমার বেশ মনে আছে, 
বাবা খুব ভোরে বেড়ুতেন আর ফিরতেন 
সবার ঘুমাবার পর। 
নাহ প্রতিদিনই নয়, 
এই ধরুন, মাসের দশ থেকে একুশ-বাইশ 
তারিখ অবধি। 
বাড়িওয়ালার সামনে পড়াটা এড়াতেই 
এই ভোর পাঁচটা-বারোটা অফিস। 
বাবা বেশ রাগী ছিলেন, 
আমরা বাবাকে ভয়ে কিছু প্রশ্ন করতে 
পারতাম না। পারলে, 
নিশ্চয়ই জিজ্ঞেস করতাম, "বাবা, তুমি রোজ অফিসের আগে, ছুটির পরে সংসদ ভবনের 
পাম ট্রিগুলোর নীচে অন্ধকারে স্যাঁতস্যাঁতে 
রাস্তায় বসে মাথা হেঁট করে কি ভাবো? 
কে তোমায় সকালের নাস্তা বানিয়ে দেয় বাবা? 
কোনো কোনো দিন লাঞ্চ কি করো কখনো?"

বাড়ি ভাড়া দেবার তারিখ উত্তীর্ণ হলেই, 
আমরা দু'ভাই গিয়ে দাঁড়াতাম বাড়িওয়ালার সামনে করুণ মুখ করে, 
উনি গলে যেতেন। এই হঠাৎ করুণ মুখ করার ব্যাপারটা আমরা বেশ ভালোই রপ্ত করে ফেলেছিলাম সে বয়সেই। 

মটর বাইক পাশ কেটে বের হলেই, 
আমি হাঁ করে চেয়ে থাকতাম।
একদিন বাবা বলেছিলেন, "শুনো আব্বা, নিম্ন মধ্যবিত্তদের স্বপ্ন দেখবারও একটা 
লিমিট থাকে রে বোকা।" 
জবাবে বাবা কে সেদিন চমকে দিয়ে বলেছিলাম, "বাবা, জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলির অপূরণের আক্ষেপ থেকে জন্ম নেয়া সুপ্ত বাসনাগুলি যদি হঠাৎই ঘুম ভেঙে লাফ দিয়ে জেগে উঠে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে চায়? সেও কি নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে অন্যায়ের সামিল হবে? 
নাকি সে বিত্তশালী হয়ে উঠবার ধৃষ্টতা?" 
বলেই ভাবলাম, কি যে সব ভুলভাল বকে ফেললাম বাবার সামনে? 
বেশী বলে ফেললাম না তো?
আমি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, 
শিক্ষা, সততা আর আদর্শই যাদের 
একমাত্র সম্বল, 
তাদের অন্তত বাবার মুখের ওপর এমন বাগ্মিতা মানায় না।

গলির মুখে তিন রাস্তার মোড়ে কার্তিক বাবুর মুদির দোকান।
তোমাকে ভয়ে কোনদিন বলিনি বাবা, 
ভীষণ হাস্যোজ্জ্বল লোকটির মুখ, আষাঢ়ের আকাশের মতো গোমড়া হয়ে যেতো আমাদের বাকির স্লিপ ধরা হাতগুলো দেখলে। 
একটা লজেন্সও কোনদিনও চাইতে পারিনি বাকির খাতার কারণে। 
বাকিতে মৌলিক চাহিদা মেটাতে মেটাতে 
শৈশব যে কোথায় ছুটে পালিয়েছিল, 
তা টের পেতে পেতে, তখন আমিও এক বাবা। 

চালের, ময়দার ঠোঙাগুলোকে কেটে কেটে সেলাই করে খাতা বানাতাম, 
বছর শেষে আবার তাদের বিক্রি করে 
নতুন ক্লাসের সেকেন্ডহ্যান্ড বই কেনা। 
নতুন বই কেনার কথা তো কস্মিনকালেও 
ভাবতে পারিনি।

আমীষ বিহীন পেঁপে ভাজি, আলুর ঝোল, 
বেগুন ভর্তা খেয়ে খেয়ে কতো 
দিন-রাত পার করেছি, 
অন্য কিছুর চড়া আঁচে আমাদের 
বাজারের ব্যাগ জ্বলে যেত সেসময়।
অন্য কিছুর সামর্থ্য ছিলো না বলে।
ঈদে পরবে কদাচিৎ জুটেছে দুপেয়ে 
ফার্মের মুরগী। 

আমাদের পিঠাপিঠি দু-ভাইয়ের জন্য 
একটিই শখের জিন্স প্যান্ট কিনতে পেরেছিলাম 
তিনশত টাকা খরচা করে। 
তাও, একমাসের একটি টিউশুনির বেতন দিয়ে। 
মা সেটা আলমারিতে তুলে তুলে রাখতেন। 
যদি কোথাও দাওয়াত পড়ত, 
আমরা ভাগ করে নিতাম কে গায়ে হলুদে যাবে সেটা পড়ে? 
আর বরযাত্রী কে হবে? 
এমন কোনো অনুষ্ঠান ছিলো না যে, 
আমরা দু'ভাই একসাথে এ্যাটেন্ড করেছি। 
উপহার কেনার সামর্থ্য কোনদিনই আমাদের ছিলো না।
তাই, আমরা শুধু বরযাত্রী বা গায়ে হলুদেই যেতাম।

আমি একজন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।
যাদের, কোনো চাহিদা থাকতে নেই।
আমাদের মা তবু খুব সুখী ছিলেন, 
কারণ ক্ষুধা লাগলে, আমরা ভাতের মাড় লবণ ছিটিয়ে খেতে পারতাম। 
তখনও, মাছের কাঁটা বেছে খেতে শিখিনি। 
মা-ও সেকথা জানতেন, দুষতেন দারিদ্রতা কে। 
আমি দিব্যি পটলের তরকারি দিয়ে আয়েশ করে খেয়ে ওঠার ভান করাটা শিখে নিয়েছিলাম। 
স্কুলের টিফিনের জন্য জেদ করেছি কিনা 
ঢের সন্দেহ আছে!
স্কুলের মাইনে দেবার সাত তারিখ পার হলেই 
ঝন্টু স্যার দাঁড় করিয়ে রাখতেন 
এক পিরিয়ড প্রতিদিন, 
জানলে বাবা যদি কষ্ট পায়! 
তাই বলা হয়নি সেকথা কোনদিনই। 
প্রায়ই হাঁটু ছিলে দগদগে ক্ষত নিয়ে ফিরতাম ফুটবল খেলে।
গভীর রাতে আমরা ঘুমিয়ে পড়লে, 
বাবা এসে কেরোসিন লাগিয়ে দিতেন আন্টিসেপটিক হিসেবে। 
ঝরঝর করে পানি পড়তো তখন তার চোখ বেয়ে। 
কেন বাবা! কেন ফেলতে? 
আমার হাঁটুর ক্ষত, এই যে রক্তাক্ত চামড়া ছেঁড়া,  কেন যে তার চোখের পুকুরটাকে আন্দোলিত করে যেত, সে সময় বুঝতে পারিনি। 
অন্যদের দেয়া সেকেন্ড হ্যান্ড জামাতেই নিজেদের  মানিয়ে নিতে শিখেছিলাম। 
তবে, আমাদের মাঝে ছিলো পদ্ম পুকুরের মতো ভীষণ লজ্জা। 
কলেজে, ক্যাম্পাসে বা আত্মীয় স্বজনদের কাছে আমাদের  অবস্থান ছিলো সুদৃঢ় ও মর্যদা সম্পন্ন। 
বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিলো না আমাদের ভেতরের দৈন্য দশা।
কারণ, শিশুবেলা থেকেই আমাদের দুটো 
শিক্ষা দেয়া হয়-
এক, আমরা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। 
আর দুই, আমরা সম্ভ্রান্ত পরিবারকে ধারণ করি।
আমাদের বুক, পেট, তল পেট, উদর, বৃহদান্ত্র, ক্ষুদ্রান্ত্র সব ক্ষুধার তাড়নায় ফেটে 
ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও, 
আমাদের মুখে সবসময় চাঁদের হাসি 
লেপ্টে থাকবে।
আমাদের মুখে সবসময়ই চাঁদের হাসি লেপ্টে থাকতো।



এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে।

About the Author

উইপোকা ব্লগে বিভিন্ন শিক্ষামূলক, বিসিএস প্রস্তুতি, সকল চাকরির সার্কুলার পোস্ট করা হয়। প্রতিটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে, আমরা একটি ক্রমবর্ধমান অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কাজ করছি।

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কোন কারণ ছাড়া লিংকিং কমেন্ট করা হলে সেই সকল কমেন্ট অনুমোদন করা হবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত কারনে লিংলিংক কমেন্ট করলে সেগুলো যাচাই বাছাই করার পর অনুমোদন করা হবে। তাছাড়া আমরা সবসময় জিরো স্প্যামিং নীতি অনুসরণ করি।উইপোকার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

স্বীকারোক্তি

এই ওয়েবসাইটে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়। পোস্ট লেখার সময় অসাবধানতাবশত আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। যেকোনো অপ্রীতিকর ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং কোনো প্রকার ভুল তথ্যের জন্য UiPoka.Com দায়ী নয়।

আপনি যদি কোনো ভুল তথ্য দেখতে পান তাহলে অবিলম্বে আমাদের জানান। আমরা দ্রুত এটি ঠিক করার চেষ্টা করবো। অভিযোগ করতে এখানে ক্লিক করুন

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.