ওরস্যালাইন খাওয়ার ভুল পদ্ধতিতে হতে পারে শিশুর মৃত্যু | জেনে নিন বিস্তারিত

খাওয়ার স্যালাইন সেই পানি-লবণের ঘাটতি পূরণ করে। ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খেতে হয়, বিষয়টি সবারই জানা। তবে স্যালাইন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম অনেকেই হয়তো জানেন না!
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated
আস্‌সালামু আলাইকুম! আশা করি আল্লাহ এর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন।আমিও আপনাদের দোয়াই ভালো আছি। আজ আপনাদের কাছে একটা নতুন আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি। তাই কথা না বাড়িয়ে চলুন সরাসরি আর্টিকেলটির মুল অংশে প্রবেশ করি। আজকের আর্টিকেল এর মূল বিষয়ঃ

ওরস্যালাইন খাওয়ার ভুল পদ্ধতিতে হতে পারে শিশুর মৃত্যু | জেনে নিন বিস্তারিত

ওরস্যালাইন খাওয়ার ভুল পদ্ধতিতে হতে পারে শিশুর মৃত্যু | জেনে নিন বিস্তারিত



ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতা রোধে ওরস্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শরীর পানি ও লবণ হারায়।

খাওয়ার স্যালাইন সেই পানি-লবণের ঘাটতি পূরণ করে। ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খেতে হয়, বিষয়টি সবারই জানা। তবে স্যালাইন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম অনেকেই হয়তো জানেন না!

ওরস্যালাইন ব্যবহারে সাবধানতাঃ

ওরস্যালাইন খুব সহজ একটা নাম। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে, ভুল ব্যবহারে এটিই হতে পারে জীবননাশী। শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রায়ই এরকম রোগী পাওয়া যায়। সবসময় বাচানো যায়না, কারণ ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়।

গা ঝাড়া দিলেন নাকি? নতুন কিছু শুনছেন? 
আমি কিন্তু নতুন কিছু বলছিনা। এরকম ঘটে প্রায়ই। রোগটার নাম HYPERNATREMIC DEHYDRATION.

সাধারণত অজ্ঞ, অশিক্ষিতদের ক্ষেত্রেই ঘটে এটা, তবে অনেক উচ্চ শিক্ষিত আপাত সচেতন মহলেও ঘটতে পারে।

আমরা সবাই জানি এক প্যাকেট ওরস্যালাইন আধা লিটার (৫০০মিলি) পানিতে গুলাতে হয়। মানিতো সবাই??? আপনার ঘরের যে মগ বা গ্লাসটাকে আপনি ৫০০ মিলির ভাবছেন, সেটা কি আসলেই ৫০০ মিলির??

কিছু স্যালাইন অবশ্য এক লিটার বা ২৫০ মিলির থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে উচিত হবে প্যাকেট এর গায়ে কতটুক পানির কথা লিখা আছে তা দেখে নেয়া।। কমনলি এটা আধা লিটারেরই হয়।

মায়েরা যে ভুলটা করেন তা হল, বাচ্চা স্যালাইন খেতে চায়না দেখে পুরা প্যাকেট স্যালাইন অল্প পানিতে গুলে থাকেন। উনাদের ধারণা, স্যালাইন তো যাচ্ছেই, পানি কম হলেই বা কি!!

না মা, হাতজোড় অনুরোধ করি এটা করবেন না। এতে করে স্যালাইনের ঘনত্ব বেড়ে যায়, অসমোটিক লোড বেড়ে যায়। যার ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলি থেকে পানি বের হয়ে চুপসে যায়। খারাপ প্রভাব পড়তে পারে কিডনিসহ শরীরের অন্য জায়গাতেও। দ্রুত এবং কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে না পারলে জীবন পড়ে যায় হুমকির মুখে।

এটা একটা manmade phenomenon, যা আমাদের ভুলে হয়ে থাকে, আমরা চাইলে এটি ফিরাতে পারি। তবে hypernatremia dehydration অন্য কারণেও হতে পারে।

চলুন দেখে নিই, ওরস্যালাইন এর ব্যবহার বিধি।


১. এক প্যাক স্যালাইন আধা লিটার পানিতেই গুলতে হবে, কম বেশী করার সুযোগ নাই একদম। 
২. একবার বানানো স্যালাইন ১২ ঘন্টার বেশি রাখা যাবেনা। যদি রয়ে যায়, তবে তা ফেলে দিয়ে নতুন করে বানাতে হবে।

মাত্রাঃ ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে ৫০-১০০ মিলি (এক বছরের নীচে), প্রতিবার পায়খানার পর ১০০-২০০ মিলি ( ১-৫ বছর)।

আরও সহজে, যত কেজি তত চামচ। অথবা চিকিৎসক এর নির্দেশিত নিয়মে।

ঔষধের চামচে এক চামচ = ৫ মিলি।

স্যালাইন জোর করে বা দ্রুত খাওয়াতে গেলে বাচ্চা বমি করতে পারে, এতে হিতে বিপরীত হবে। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়াতে হবে। ডাক্তারের কাছ থেকে অবশ্যই মাত্রা এবং ফ্রিকুয়েন্সি বুঝে নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, এই ওরস্যালাইন কিন্তু ডায়রিয়া ভাল হওয়ার জন্য না। বরঞ্চ ডায়রিয়ার জন্য শরীর থেকে যে পানি ও লবণ বেরিয়ে যাচ্ছে, তা পূরণের জন্য। 

বেশীর ভাগ ডায়রিয়াই ভাইরাল, মাত্র ১৫% ব্যাক্টিরিয়াজনিত। তাই এন্টিবায়োটিক এর রোল কম। ধৈর্য ধরলে ৩-৫ দিনে নিজে নিজেই সেরে যায়। 

ওরস্যালাইনের কিছু বিপদ চিহ্নঃ


  • বাচ্চা নেতিয়ে পড়া বা দুর্বল হয়ে যাওয়া,
  • প্রস্রাব কমে যাওয়া,
  • তালু ডেবে যাওয়া,
  • অতিরিক্ত বমি বা এত বেশি পায়খানা যা স্যালাইন দিয়ে পূরণ সম্ভব না,
  • পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া,
  • তীব্র জ্বর।
এসব লক্ষণ দেখলে মোটেও কালক্ষেপণ করবেন না। অতিদ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

সবার নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

ডা. খন্দকার মোবাশ্বের আহমেদ 
শিশু বিশেষজ্ঞ এবং শিশু পুষ্টি ও গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞ।


এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই আর্টিকেল যদি বুঝতে কোন অসুবিধা হয় অথবা কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, যথাক্রমে সকল কমেন্টের উত্তর দেওয়া হবে। আর নতুুন কিছু জানার থাকলে আমাদের জানান, আমরা সে-সব জানানোর চেস্টা করবো আমাদের সাথে যোগাযোগ


স্বীকারোক্তিঃ UipOka তে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্দ্ধে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে। সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

About the Author

উইপোকা ব্লগে বিভিন্ন শিক্ষামূলক, বিসিএস প্রস্তুতি, সকল চাকরির সার্কুলার পোস্ট করা হয়। প্রতিটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে, আমরা একটি ক্রমবর্ধমান অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কাজ করছি।

Post a Comment

ব্যাকলিংক পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কোন কারণ ছাড়া লিংকিং কমেন্ট করা হলে সেই সকল কমেন্ট অনুমোদন করা হবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত কারনে লিংলিংক কমেন্ট করলে সেগুলো যাচাই বাছাই করার পর অনুমোদন করা হবে। তাছাড়া আমরা সবসময় জিরো স্প্যামিং নীতি অনুসরণ করি।উইপোকার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

স্বীকারোক্তি

এই ওয়েবসাইটে উপস্থাপিত সমস্ত তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়। পোস্ট লেখার সময় অসাবধানতাবশত আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে। যেকোনো অপ্রীতিকর ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং কোনো প্রকার ভুল তথ্যের জন্য UiPoka.Com দায়ী নয়।

আপনি যদি কোনো ভুল তথ্য দেখতে পান তাহলে অবিলম্বে আমাদের জানান। আমরা দ্রুত এটি ঠিক করার চেষ্টা করবো। অভিযোগ করতে এখানে ক্লিক করুন

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.