রিফুজি লতার ঔষধি গুন ও ব্যবহার | Refugee Later Medicine Gun
বাংলা নাম রিফুজি লতা বা আসামি লতা। বৈজ্ঞানিক নাম Mikania micantha ।
আসামলতা, কইয়া লতা, বুচিলতা, তরুলতা, রিফুজি লতা, শঙ্খুনি লতা, জার্মানি লতা ইত্যাদি নামে এটাকে ডাকা হয়। এই লতা অতি বৃদ্ধিপ্রবল, একবার বেড়ে উঠবার সুযোগ পেলে বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে, জড়িয়ে ধরে অন্য গাছের শাখা-প্রশাখা।
রিফুজি লতা বনে-জঙ্গলে, পতিত জমিতে বা পথের পাশে যেখানে ফোটে সে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতেই থাকে। রিফুজি লতার কোন ধরনের যত্ন না নিলেও চলে,এটি একবার বেয়ে গেলে আর সহজে মরে না।
রিফুজি লতা। আমাদের চোখের সামনে সব সময় থাকলেও আমরা কিন্তু এই লতা গাছটির নাম জানি না অনেকে এটাকে জাপানি লতা কেউ বলে জার্মানি লতা আবার ছোটবেলায় বলতে শুনেছি পাকিস্তানি লতা। আবার একে ফিরিঙ্গি লতা হিসেবেও চেনে।
বাংলাদেশর এমন কোন জংগল নেই যে সেখানে রিফুজি লতা পাওয়া যাবে না।আপনার শরীরের যে কোন জাইগা কেটে গেলে আপনি যদি রিফুজি লতার পাতা রস করে লাগিয়ে দেন তাহলে আপনার কাঁটা জাইগা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে ও কাটা জোড়া লেগে যাবে । ইহা এক মহা ঔসাধি লতা বিপদে আপনার বন্ধু হতে পারে ।
রিফুজি লতা কিভাবে ব্যবহার করবেন ?
কতকগুলি পাতা ছিড়ে পাটার উপর রেখে সুন্দর ভাবে পিশে শরীরের কাটা জাইগা ঐ পিশা পাতা লাগিয়ে কাপুর দিয়ে জড়িয়ে রাখুন। আনুমানিক ৪/৫ ঘণ্টা বাদ খুলে দেখবেন আপনার কাটা জোড়া লেগে গেছে। লাগানর সাথে সাথে আপনার কাটা জাইগা থেকে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে।
রিফুজি লতা পাতার প্রচুর ভেষজ গুণ
শীতকালে হাতের তালুতে চামড়া উঠলে খসখসে হয়ে গলে জার্মানি লতা লাগালে খুব উপকার পাওয়া যায়।
কিডনি এবং পাকস্থলিতে পাথর হলে ২-৩ টি জার্মানি লতা চিবিয়ে খেলে পাথর আস্তে আস্তে অপসারণ হয়ে যাবে।
জন্ডিস বা লিভারের যে কোনও সমস্যা হলে জার্মানি লতার রস অনেক কার্যকর।
মূত্রথলির সমস্যায় জার্মানি লতার রস খুব উপকার করে।
এদেশের আনাচে কানাচে, ঝোপ জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মুক্তো মানিক।
কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় এই যে আমারা আজও সেই মুক্তো মানিক চিনতেই পারিনি।
আমরা এগুলোকে পা দিয়ে মাড়িয়ে চলে যাই,তারপরও ভেবে দেখিনি, জেনেও দেখিনি কোন উপকারে আসবে কিনা।
রাস্তার ধারে, পুকুরের পাড়ে,বনে বাগানে হাজারো উপকারী গাছপালা, লতাপাতা আছে যা আমাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষার দেয় , পাশাপাশি অনেক সুবিধাও দিয়ে থাকে। আজ আপনাদের জানাবো এমনই এক উপকারী গাছের কথা।
![]() |
| রিফুজি লতা বা জার্মান লতা |
রিফুজি লতার ঔষধী গুনাগুন
* প্রসাবে জ্বলাপোড়ায় নিয়মিত পাতার রস খেলে সমস্যা কেটে যাবে।
* লিভারের যে কোন সমস্যায় এই পাতার রস অনেক উপকার করে।
* চোখ লাল হয়ে গেলে এই পাতার রস খেলে সমস্যা কেটে যাবে।
* পাকস্থলীর প্রদাহ হলে আদার সাথে তিনটি পাতা চিবিয়ে খেয়ে নিন।
* এই পাতার রস নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
* শরীরের কাটা ছেঁড়ায় এ লতার পাতা পিষে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে তিন থেকে চার ঘন্টা বেধে রাখুন, জোড়া লেগে যাবে।
* বসন্ত বা হাম হয়েছে যাদের, তারা রিফুজি পাতা পিষে রস পানির সাথে মিশিয়ে পু্রো শরীর ধুয়ে ফেলুন।
* রক্ত দূষিত হলে ৭দিন প্রতি সকালে খালি পেটে আধা-কাপ পাতার রস এক চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খাবেন।
* পেটে গ্যাস, এসিডিটি হলেই আধা-কাপ রিফুজি পাতার রস খেয়ে নিন, সেরে যাবে।
* বিষাক্ত পোকা-মাকড় কাঁমড় দিলেই রিফুজি পাতার রস দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, সেই সাথে পাতা পিষে লাগিয়ে রাখুন।
* চুলকানী, একজিমা, দাদ হলে এই পাতার রস দিয়ে ধুয়ে রস লাগাতে থাকেন দেখবেন সেরে যাবে।
* এই পাতার রস কাচা হলুদের সাথে মিশিয়ে শরীরে লাগালে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শরীরে দাগ দুর হয়।
* মূখে মেসতা হলে হলুদের সাথে লেবুর রস ও এই পাতার রস মিশিয়ে লাগান সেরে যাবে।
প্রতিদিন খালি পেটে চার চা-চামচ রিফুজি লতার রস ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে সাতদিন খেলে রক্ত দূষণ ভালো হয়।
আমরা যদি ঔষধি গাছের গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে আমাদের সব সময় ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না আমরা নিজেরাই অনেক রোগের প্রতিকার করতে পারব।

